নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 15 বার পঠিত
শামসুল আলম
শামসুল আলম
আসন্ন বাজেট নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। উচ্চাভিলাষী বাজেট অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যেন জনগণের কাঁধে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে না দেয়। বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং উৎপাদনশীল অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা।
কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওসমূহের মধ্যে একটি কার্যকর ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামো, যার মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মজীবনে প্রবেশের একটি সুসংহত “চেইন” বা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক, ইন্টার্নশিপ এবং বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প কার্যক্রমকে জাতীয় কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ করতে হবে। স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক কারিগরী শিক্ষা সরকারের জন্য চমৎকার একটি উদ্যোগ। এতে করে মাধ্যমিক শেষে সবাই কর্মী হয়ে উঠবে। আরে ঝরে পড়াদের জন্য একটি বাঁচার অবলম্বন হবে।
বাজেট আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক পলিসি ও মুদ্রা পলিসির সমন্বয়। ঘাটতি বাজেটের অর্থ কোথা থেকে আসবে—ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে, নাকি নতুন মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে—এ প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। কারণ অর্থায়নের উৎসের ওপরই নির্ভর করে ভবিষ্যতের মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
ঋন করে অর্থ খরচ করতে গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। করের হার বাড়ানোর আগে করের আওতা ও আদায় ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি অনেক বেশি জরুরি। কর ব্যবস্থা আধুনিক অটোমেশন করে যদি প্রতিটি লেনদেন থেকে নির্ধারিত কর ও ভ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজস্ব ব্যবস্থায় যুক্ত করা হলে রাজস্ব সংগ্রহে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। অনেকে মনে করেন কর হার না বাড়িয়েও এভাবে ২৮ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় করা সম্ভব। প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজস্ব কাঠামোই হতে পারে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। সরকারের জন্য এটু একটি চ্যালেঞ্জ!
আরেকটি মৌলিক বিষয় হলো নির্ভরযোগ্য জনমিতিক তথ্য—বাংলাদেশের প্রকৃত জনসংখ্যা কত? বিগত শুমারির প্রাক্কলনে ২০২৫ সালের শেষে জনসংখ্যা প্রায় ১৭.৬৪ কোটি বলা হলেও এ সংখ্যা নিয়ে দেশে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রশ্ন রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকের মতে, প্রকৃত জনসংখ্যা এর চেয়ে অন্তত আড়াই/তিন কোটি বেশি হতে পারে। যদি জনসংখ্যা নিরূপণে বড় ধরনের ত্রুটি থেকে থাকে, তবে বাজেট প্রণয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান নীতিসহ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়বে।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, ১৯৬১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫.৫২ কোটি এবং ১৯৯১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১.১৫ কোটিতে, মানে ৩০ বছরে দ্বিগুণ। অথচ পরবর্তী ৩৫ বছরে দেখানো হচ্ছে মাত্র ৬২ ভাগ বৃদ্ধি! জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও শিশুমৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং গড় আয়ুও বেড়েছে। ফলে বর্তমান জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন হিসাব-নিকাশের যথার্থতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। দেশের অনেক অর্থনীতিবিদ ও জনমিতি বিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিসংখ্যানের নির্ভুলতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ও পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে, স্বৈরাচার হাসিনা জনমিতির এই চোরামি করিছিল মাথাপিছু আয় বেশি দেখাতে। বর্তমান সরকারের এসবের কোনো প্রয়োজন নাই। তাই একটি কার্যকর ও বাস্তবমুখী জাতীয় পরিকল্পনার জন্য জনসংখ্যার নির্ভরযোগ্য প্রাক্কলন এবং বিবিএসের পরিসংখ্যান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
একটি জরুরী বিষয়—কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের বর্ডার জুড়ে পুশ-ইনের যে ধাক্কা চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। সেখানে একেক বর্ডারে মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিশু বৃদ্ধ সহ ৬১ ঘন্টা খোলা আকাশের নিচে এমন খবর দেখতে হচ্ছে—দুদিকে দুদেশের ফ্রন্টিয়ারের উদ্ধত রাইফেল। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। মানবাধিকার মারাত্মক লংঘন হচ্ছে। এই মানুষগুলোর খাবার আশ্রয় দরকার। দরকার হলে রেডক্রস বা জাতিসংঘকে ডাকতে হবে। ওপারের কোনো রাজ্যে নির্বাচন হলে এবং নতুন সরকার এলেই তো আর রাজ্য স্বাধীন হয়ে যায়ন না। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজধানী আগেরটাই আছে। তাই আমাদের সরকারের উচিত অবিলম্বে ওই দেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এসব পুশ-ইন বন্ধ করতে বলা। দরকার হলে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক করা। রাশিয়ার সাথে আপাতত আমাদের কোনো বর্ডার নেই।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা সবার স্বার্থে প্রয়োজন।
আজকের এই মঙ্গলবারে আমাদের প্রার্থনা—নীতি হোক বাস্তবসম্মত, পরিকল্পনা হোক তথ্যভিত্তিক, অর্থনীতি হোক কর্মসংস্থানমুখী, রাষ্ট্র হোক দুর্নীতিমুক্ত এবং মানবিক।
সবাই ভালো থাকুন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সত্য, দক্ষতা ও ন্যায়ের পথে। বিশ্বে মানবতার জয় হোক, পৃথিবী হোক শান্তিময়।
শুভ সকাল। মঙ্গলবারের বাংলাদেশ
Posted ৪:৪৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
banglapostbd.news | Mr. Metul
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।