নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট | 530 বার পঠিত
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, জানুয়ারির ২৯ তারিখের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ক্ষমতাসীনরা যেকোনো মূল্যে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন তুলে আনার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশনও তৎপর। সেই নির্বাচনটি কেমন হবে বা হতে পারে, তা অনেকটা খোলাসা করে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তাও আড়ালে-আবডালে নয়, প্রকাশ্যে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ তার সহকর্মীদের বিভিন্ন বক্তব্যে আগামী নির্বাচনটি কেমন হবে এর একটি প্রচ্ছন্ন ধারনা মিলছিল। এ পর্যায়ে এসে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল জানালেন, এক শতাংশ ভোট পড়লেই নির্বাচন আইনগতভাবে সঠিক, বৈধ। এটি মনের কথা হলে তার অংশগ্রহণমূলক-প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন করার চেষ্টা ও নসিয়ত অনেকটাই অবান্তর-নিরর্থক। এর আগে, একবার বলা হয়েছে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের চাপ পড়েছে বর্তমান কমিশনের ওপর। এরও আগে কথা দেয়া হয়েছে, এবার আর রাতে ভোট হবে না; দিনের ভোট দিনেই হবে। হালনাগাদ নতুন কথা: এক শতাংশ ভোট পড়লেই নির্বাচন আইনগতভাবে বৈধ। বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে আসবে কিনা, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে কিনা-এসব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রশ্নের মাঝেই বোমাটি ফাটালেন সিইসি। জানিয়ে দিলেন এক শতাংশ ভোট পড়লেও নির্বাচনটি বৈধ হবে। আর বৈধ হওয়া মানে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া। রেজিটিমেসি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নির্বাচন কমিশন নিয়ে মাথা ঘামাবে না। খোলাসা করার আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।
কথা বা তথ্য হিসেবে এটি নতুন নয়। নৈতিকতা, লাজশরম আর লেজিটিমেসি- এগুলো এখন আপেক্ষিক। এ সব নিয়ে ভাবার গরজ সেই কবেই। ২০১৪ বা ১৮ সালের সিইসিরাও লেজিটিমেসির পরোয়া করেননি। বিনাভোটে ১৫৪ জনের এমপি হয়ে যাওয়া বা রাতে ভোট করে ফেলায় লেজিটিমেসির কিছু যায় আসে না। ওই নির্বাচনও লিগ্যালি বৈধ। সামনে এক শতাংশ ভোট পড়লেও বৈধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে সেই ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত সব নির্বাচনের বৈধতাই প্রতিষ্ঠিত। সেই বিচেনায় সামনেরটিও বৈধ এবং গ্রহণযোগ্যই হবে। তা আগের রাতে কেন দুতিন আগে বাক্সভর্তি রাখলেও, ১৫৪ কেন প্রায় তিন’শ আসনে বিনাভোটে এমপি হয়ে গেলেও। সিইসির লেজিটিমেসি এবং এক শতাংশ ভোট কাস্টিংয়ের কথায় কিছুটা সেই বার্তাই মিলছে।
ক্ষমতাসীনদের মানসিকায়ও সেই নমুনা ও ভাবভঙ্গি লক্ষনীয়। ইইউর পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি প্রয়োগের ঘোষণাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের সুষ্ঠু নির্বাচনের পরামর্শ ও তাগিদকে তারা পাত্তা দিতে নারাজ। উপরন্ত তলে তলে সমঝোতার কথা শোনানো হচ্ছে। তারা মানতেই চাচ্ছেন না, ভোটাধিকার আন্তর্জাতিক আইন ও অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তি দ্বারা স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার, এটি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এও অনুধাবন করতে নারাজ যে হুট করে যুক্তরাষ্ট্র কারও বিরুদ্ধে ভিসানীতি প্রয়োগ করেনি। দালিলিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ভিসা নীতি বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধাদানকারীদের জন্য একধরনের সতর্কবার্তা। ভোট জালিয়াতি থেকে শুরু করে ভোটের প্রক্রিয়াকে বাধাদানকারী যে কেউ এই নীতির আওতায় পড়তে পারেন। শুধু তা–ই নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষিত করার প্রয়াসে অতীতে যারা লিপ্ত ছিলেন বা ভবিষ্যতেও থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধেও এই ভিসা নীতি কার্যকর থাকবে। মোটকথা সামনের নির্বাচন এযাবৎ অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হতে যাচ্ছে। এর ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব সর্বপ্রথম নির্বাচন কমিশন ও কর্মকর্তাদের ওপরে বর্তাবে। অতীতে দায়িত্ব না নিয়ে কমিশন পার পেলেও ভবিষ্যতে তা না–ও হতে পারে। লিগ্যালিটি এবং লেজিটিমেসির জ্ঞান সামনে কাজে নাও লাগতে পারে। সেখানে সিইসি কোন বুঝে এক শতাংশ ভোট বা লেজিটিমেসি নিয়ে এ ধরনের কথা শোনালেন? যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের চাপের তাপ অনুভব করছেন না তিনি?
বিশ্ব বাস্তবতা ও ভূ-রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, রাশিয়া, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশেরই চোখ বাংলাদেশের ২৪ সালের নির্বাচনের দিকে। সেখানে যোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসা নীতির ঘোষণা করেছে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশের ওপর নির্বাচন প্রশ্নে এ ধরনের ভিসা নীতি আরোপ করা হয়েছে নির্বাচনের পর। ফলে এই নীতি তেমন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরুর আগেই। বার্তাটি না বুঝলে বা বুঝতে দেরি হলে একটা পরিনাম অবধারিত, তা না বোঝার মতো নয়। শুধু ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের চাপ সইতে হচ্ছে তা মালুম যথেষ্ট নয় সিইসিসহ তার কমিশনের। সামনে চাপ-তাপসহ আরো কতো কী অপেক্ষা করছে তা ওবায়দুল কাদেরের মতো তলে তলের বিষয় নয়। অনেকটা ওপেন সিক্রেট।
লেখক : মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিকী তালুকদার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বাংলাপোস্ট
Posted ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৩
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।