| শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট | 722 বার পঠিত
মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার
’দৃষ্টি জুড়ে দেশ’-স্লোগানকে ধারণ করে ১৮ বছরে পদার্পণ করল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশন। মানুষ যেমন হামাগুড়ি দিতে শিখে ক্রমে হাঁটি হাঁটি পা পা করে একদিন অবয়বে-মননে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠানও ক্রমবিকাশের পথে চলে। আর এই বিকাশের সঙ্গী হতে ২০০৬ সালে শুরু বাংলাভিশনের। চ্যানেলটির কর্মীদের অনেকে সেই শুরু থেকে এখনো এখানেই আছেন। বেশ ক’জন আছেন বিভিন্ন স্টেশনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। কোথাও কোথাও চালকের আসনেও তারা।
গণতন্ত্রের বিকাশ, জনমত গঠন এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। গণমাধ্যম যাতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা একান্ত অপরিহার্য। পাশাপাশি গণমাধ্যমগুলোকে দেশের সমাজব্যবস্থা ও সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ অনুষ্ঠান প্রচারে এগিয়ে আসার কাজটি দৃঢ়তার সাথে করে আসছে বাংলাভিশন।
নানা চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশের গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। পেশাদারিত্ব এবং তার বাণিজ্যিকভাবে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ কখনো কখনো সাংঘর্ষিক। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও মানসম্মত অনুষ্ঠান পরিবেশনও কখনো কখনো কঠিন। শুরু থেকে জনরুচি তৈরি, সব শ্রেণির দর্শকের কাছে টেনে সেই কঠিনেরে সঙ্গী করে দৃষ্টি জুড়ে দেশ দেখানোর কাজটি গত ১৭ বছর ধরে করছে বাংলাভিশন। প্রযুক্তির বিস্ময়ের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দিতে বেশি সময় নেয়নি বাংলাভিশন। দেশে-বিদেশে ব্যাপ্তি আর সম্প্রচার সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চ্যানেলের অনুষ্ঠানে এসেছে বৈচিত্র্য। গড়ে উঠেছে চ্যানেলটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। যার নেপথ্যে রয়েছে সুচিন্তিত-সুপরিকল্পিত পরিচালনা ও দক্ষ কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম।
এরইমধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমেও অগ্রযাত্রার অংশীদার বাংলাভিশন। বলা হয়ে থাকে, টেলিভিশন ওয়ানটাইম ইউস মিডিয়া, অর্থাৎ পর্দায় একবার যা দেখানো হয়ে যায়, তা আর টেনে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাভিশনের এ সীমাবদ্ধতা দূর করেছে বাংলাভিশন অনলাইন ও ভিডিও কনটেন্ট সমৃদ্ধ অনলাইন পোর্টাল। একঝাঁক নিবেদিত কর্মীবাহিনীর নিরন্তর পরিশ্রমের ফলে এরই মধ্যে দেশ-বিদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পোর্টালে পরিণত হয়েছে এটি।
দেখতে দেখতে বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশনের ইতিহাস দুই যুগ পার হয়েছে। টেলিভিশন বলতে একটা সময় পর্যন্ত মানুষ বিটিভিকেই বুঝতো। সেখানে নতুন ধারণা যোগ হয় ১৯৯৭ সালের ১৫ জুলাই এটিএন বাংলার মাধ্যমে। এর দু’বছর পর আসে চ্যানেল আই। ২০০০ সালের ১৪ এপ্রিল একেবারে চমক একুশে টেলিভিশন-বিটিভি। বিটিভি নির্ভর দর্শকদের প্রথম টেলিভিশন সংবাদের ভিন্ন স্বাদ এনে দেয় চ্যানেলটি। বেসরকারি টেলিভিশনের এ অভিযাত্রায় ২০০৬ সাল থেকে একই গতিতে এগোচ্ছে বেসরকারি এই চ্যানেলটি।
লাল-সবুজের স্ক্রিনকে আন্তরিকতার সাথে ঝকঝকে রেখে সৃষ্টি সুখের উল্লাস করে যাচ্ছে অবিরাম। ভালো কনটেন্টের পাশাপাশি স্ক্রিনের স্বচ্ছতা, রং ও শব্দও বাংলাভিশনকে অন্য যেকোনো চ্যানেলের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। ১৭ বছরের এ পথচলায় কুড়িয়েছে অগণিত দর্শকের ভালোবাসা। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। দর্শকের অবিরাম তথ্য ও বিনোদনের চাহিদা জোগান দিয়ে দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে এগিয়ে যাক বাংলাভিশন। নিশ্চয়ই বরাবরের মতো বাঙালি সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে স্থান দেবে সবার ওপরে। বাংলাভিশনের পরিচালনা পর্ষদ, কলাকুশলী, সংবাদকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।
লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বাংলা পোস্ট এবং প্রকাশক, বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা।
Posted ৮:২৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩
banglapostbd.news | S A
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।