ফখরুল ইসলাম খান | মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট | 743 বার পঠিত
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জীবনের সকল দিক ও বিভাগ সম্পর্কেই এতে রয়েছে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান। এ কারণেই এটি সকল ক্রটি, ভুল ও অপূর্ণতা মুক্ত। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান হওয়ায় এর প্রতিটি বিধানই মানুষের জন্য কল্যাণকর। এতে এমন কোন বিধান নেই যার অনুসরণ কোন মানুষের জীবনে অকল্যাণ ডেকে আনে। কিংবা মানুষের জন্য কোন সমস্যা সৃষ্টি করে। ইসলাম ছাড়া আর সকল চিন্তাধারা (মতবাদ) মানুষের মনগড়া, আর সেইগুলি ভল, ত্রুটি ও অপূর্ণতামুক্ত নয়। অতএব ইসলাম ছাড়া আর যেই কোন মতবাদেরই অনুসরণ করা হোক না কেন, তা মানুষের অবশ্যই ভুল পথে ঠেলে দিবে নিশ্চিত ও তার জীবনে ছোট বড় অনেক সমস্যার জন্ম দিবে। অর্থাৎ মানুষের সুখ, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির গ্যারান্টি একমাত্র ইসলাম।
কুরআন ও সুন্নাহে আমাদের যে সামাজিক বিধান নির্দেশ করেছে, রাসুলুল্লাহ {সাঃ}, খলিফাতুল মুসলিমিন, সাহাবায়ে কেরামগণ যে ইসলামী সমাজ গঠন করেছিলেন সেই সমাজ থেকে দুরে সরে আসায় আজ আমাদের এই অধঃপতন। মুসলমানরা নারীদের অধিকারের ব্যাপারে প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক আগে দুরে সরে আসায় আজ নারীরা পাশ্চাত্যের অন্ধ গোলামী, মুসলিম বিশ্বের সর্বব্যাপী দারিদ্র এবং পাশ্চাত্যের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্ব আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মুসলমানদের কোনো কোনো দল ও ইসলামের দাবিদারদের একটি অংশ নারী অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করার ফলে অনেকেই ইসলামকে অনুসরণ করার পরিবর্তে ঘৃণাভরে দূরে সরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিকতাবাদীদের হাতকেই শক্তিশালী করছে। একটি দল অতিপ্রান্তিকতারশিকার হয়ে নারী অধিকার হরণ ও তাদের প্রতি জুলুম করেছেন এবং অন্য দলটি অতি বাড়াবাড়ি করে তাদেরকে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, প্রকৃতি সৃষ্ট সীমারেখা এবং নৈতিকতার সীমারেখার বাইরে ঠেলে দিয়েছে।
আমাদের দেশে “নারী অধিকার” বিষয়টি একটি জাজ্বল্যমান সত্য, এব্যাপারে অবহেলা ও বাড়াবাড়ি উভয়ই আচরণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ একদিকে বৃহত্তম বিষয়ের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং অন্যদিকে ক্ষুদ্রতম বিষয়কে পর্বতসম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কর্মক্ষেত্র ছাড়া আল্লাহর বিধান পালনে নারী-পুরুষের ভিন্নতা কোথায় নেই।
اَلَمۡ يَكُ نُطۡفَةً مِّنۡ مَّنِىٍّ يُّمۡنٰىۙ, ثُمَّ كَانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوّٰىۙ, فَجَعَلَ مِنۡهُ الزَّوۡجَيۡنِ الذَّكَرَ وَالۡاُنۡثٰى
সে কি বীর্যরূপ এক বিন্দু নগণ্য পানি ছিল না যা (মায়ের জরায়ুতে) নিক্ষিপ্ত হয়। অতঃপর তা মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ তার সুন্দর দেহ বানালেন এবং তার অংগ-প্রতংগগুলো সুসামঞ্জস্য করলেন।তারপর তা থেকে নারী ও পুরুষ দু”রকম মানুষ বানালেন। {আয়াত-৩৭,৩৮,৩৯ সূরা কিয়ামাহ}
মানুষ আকার-আকৃতির দিক দিয়ে ভিন্নভাবে সৃষ্টি। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সেইভাবেই গঠন ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। যেভাবে তা তার কাজের সাথে সংগতশীল হয়। এই কারণেই নারীর শারীরিক গঠন, তার নকশা, নমুনা, চিত্র, প্রকৃতি চিন্তা ও কাজে নারীত্বেরই প্রকাশ ঘটে। যেমনিভাবে পুরুষের শারীরিক গঠন, চরিত্র, প্রকৃতি কাজে ও কর্মে পুুরুষত্বেরই প্রকাশ ঘটে। পুরুষ-পুরুষই আর নারী নারীই। এদের মধ্যে স্বভাবজাত এক আকর্ষণ রয়েছে। যা কখনও কম হয়নি আর কখনও হবে না। এটি এমন এক আকর্ষণ যার প্রতিক্রিয়া প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ে। বিপরীত লিঙ্গের এই দুই সত্তার মধ্যে তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও আকর্ষণ তীব্র হয়ে হঠে। অঙ্গের প্রতিটি জোড়ার সুরেলা ঝংকার দেহ ও মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এ ভাবেই তারা জৈবিক চাহিদা পুরণের কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যায়। মানুষ যে সব ব্যাপারে পুলক অনুভব করে দৃষ্টি নন্দন বিষয় অবলোকন তার মধ্যে অন্যতম। বাড়ী ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি দিয়ে বাগান সাজানো, ঘরের দামী নজরকাড়া আসবাবপত্র ইত্যাদির পেছনে মানুষ যে লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করে তা কেবল মাত্র দেখার জন্য, সৌন্দর্যের জন্য এবং দেখে পরিতৃপ্ত হওয়ার জন্য। এছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যই নেই। সত্যি কথা বলতে কি দেখার মধ্যে আকর্ষণ সব কিছুর সাথে সম্পৃক্ত। পানাহারের বস্তুর ক্ষেত্রেও দৃষ্টির পছন্দ- অপছন্দের ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। বলা যেতে পারে সুখের চেয়ে দেখার চাহিদা বেশী। খাওয়ার পরিতৃপ্তির চেয়ে দেখার পরিতৃপ্তি বেশী বিস্তৃত। কথায় বলে “চোখে খেলে মুখে খায়”। ভাল কিছু খাবার দাবার দেখলেই তা পরিপাকের জন্য পাকস্থলীতে পৌছে দিতে মুখে লালা এসে যায়। ভাল ও সুন্দরের প্রতি মানুষের দৃষ্টি চিরন্তনী। দেখার মধ্যেও পরিতৃপ্তির ব্যাপারটি রয়েছে।
তাহলে সুন্দরী লাবণ্যময়ী নারীর পরিপাটি মুখচ্ছবি দেখে পুলক অনুভবের কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? কিন্তু তাকওয়া ও আল্লাহ ভীতি মানুষকে এই সুন্দরই শিক্ষা দেয়, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে, যাতে ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে বাঁচতে পারে। কামনা তো তখনই জ্বলে উঠে যখন তা জাগ্রত করার জন্য আহবান জানানো হয়। নিজের রূপ-সৌন্দর্য, প্রদর্শনকারী মহিলা প্রকারান্তে পুরুষের কামনার আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তাকে ঠেলে দেয় গুমরাহীর দিকে। সমাজে নেমে আসে বিপর্যয়। কারণ সমাজের অধিকাংশই তো যুবক। যাদের দেহের পরতে পরতে রয়ে যায় যৌবনের হিল্লোল। উদ্যম সুন্দরীদের দেখে তা উত্থলে পড়ে। যুবকদের চোখ যখন নগ্ন নারী দেহ দেখে তখন তা ভোগ করার জন্য তারা নেকড়ের মতো পাগল হয়ে যায়। তখন সে সেই জিনিষের প্রতি ঝুঁকে পড়ে যা তার ক্ষধাকে মিটাতে পারে। তা দুর্গন্ধযুক্ত বিকৃত লাশই হোক না কেন। স্রেফ এক নজর দেখার মাধ্যমে ঘটে যেতে পারে হাজারো রকমের বিপর্যয়। শুধু একটি নজরের কারণে ভেঙ্গে যেতে পারে স্বামী স্ত্রীর সাজানো সুখের সংসার। সন্তানরা নিক্ষিপ্ত হতে পারে কষ্ট ক্লেশের অতল গহ্বরে। কবি হুমায়ূন আজাদ তার জলন্ত প্রমাণ। যাবতীয় বিপদ-মুসিবতের ভিত্তি হতে পারে এক নজর দেখা।
যেমন কবি বলেছেন-
আনতে পারে বিপদ ডেকে একটু চপল দৃষ্টি
যেমন একটু আগুন কণা পোড়ায় সকল সৃষ্টি:
এমন অনেক নজর আছে হানে বিষের তীর
অথচ তার নেইকো ধনুক নেই কোনো তুলীর:
নরের চোখ খোঁজে ফিরে ডাগর চোখের সুনয়না
জানে না সে আছে সেথায় হাজারো রকমের বিড়ম্বনা:
দেখতে নারী চোখের সুখ কালি লাগে মনে
সেই সুখে কি আছে মজা বেদনা তার মনে।
তাই সমস্ত মহিলাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, যারা শয়তানের আঙ্গুলের তুড়িতে নেচে বেড়াচ্ছেন এবং মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে, মহিলাদের মান-সম্মান অক্ষুন্ন রাখা, বেহায়াপনা, ব্যভিচার, ফিতনা-ফাসাদ, থেকে বাঁচা এবং মুনের কলুষতা থেকে মুক্ত রাখার জন্য মহিলাদের অবশ্যই পর্দা মেনে চলতে হবে এবং নিজের রূপ-সৌন্দর্যকে গোপন রাখতে হবে। পর্দা তাকওয়া ও ইসলামের নিদর্শন, লজ্জা ও শরমের চিহ্ন, সম্মান ও মর্যাদার চাদর এবং আপনাদের সৌন্দর্যের মুকুট, ভদ্রতা, শিষ্টাচারের একমাত্র দলিল।
#পর্দার_সাধারণ_অর্থঃ-
পর্দা মানে আবরণ। অর্থাৎ যা দিয়ে কিছু ঢেকে রাখা হয় কিংবা যার সাহায্যে কোন কিছু দৃষ্টির আড়াল করা হয়-তাই পর্দা। আরবী হিযাব শব্দের অর্থ হলো পর্দা মহিলাদের দৈহিক অবয়ব যাতে বাইরে ফুটে না বের হয় সে উদ্দেশ্যেই পর্দা করা হয়। যেমন- দরজা-জানালার পর্দা, অন্য দিকে খাবার ঢেকে রাখা, বইয়ের মলাট লাগানো হয়। টেবিলের উপর কাপড় বিছানো হয়, রেডিও টিভির উপর কভার দেয়া হয়। কাপড় পরিধানও এক প্রকার পর্দা। মেয়ে মানুষ কোন অবস্থাতেই শরীরের উপরের অংশও অনাবৃত রাখে না। অবশ্যই আজকাল প্রগতির নামে শহরের হাওয়া গ্রামের বধূদের গায়ে লাগা শুরু হয়েছে।
#পর্দার_উদ্দেশ্য_কি?
উপরের আলোচনা থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, পর্দার উদ্দেশ্য হচ্ছে- (১) ময়লা-আবর্জনা থেকে রক্ষা করা, (২) বাহিরের মানুষের কু-নজর থেকে বাঁিচয়ে রাখা, (৩) লজ্জা-শরমের মাথা না খাওয়া অর্থাৎ লজ্জা অনুভব করা।
#পর্দা_নিয়ে_সমালোচনাঃ-
মহিলাদের পর্দা নিয়ে মত বিরোধ দেখা যায় আমাদের সমাজে। কেউ বলেছেন-পর্দা মানে মহিলাদের চার দেয়ালের মধ্যে আটকে রাখা। পর্দা মানে প্রগতির অন্তরায় সৃষ্টি করা, মহিলাদের অবরুদ্ধ করে রাখা ইত্যাদি। মহিলা-পুরুষের শরীরের পার্থক্য আমরা সকলেই জানি, মহিলা-পুরুষ উভয়ই মানুষ। এই মানুষের মধ্যে রয়েছে দুই প্রকার সুষ্টি রহস্য। আর যে কারণে পুরুষ তার শরীরের কিছু অংশ খোলা রাখতে পারে। কিন্তু মহিলারা তা খোলা রাখতে পারেনা। এই কারণে পুরুষের ক্ষেত্র আর মহিলার ক্ষেত্র আলাদা। এ ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-আশাক, কথা-বার্তা, সাজ-গোছ, ব্যবহারিক আচার-নীতিমালা, পুরুষদের থেকে মহিলারা সম্পূর্ণ আলাদা। পুরুষ যা সহজে ও অনায়াসে পারে মহিলা তা পারে না, সম্ভব হয় না। আবার মহিলারা যা পারে তা পুরুষরা পারে না।
#পর্দার_প্রয়োজনীয়তাঃ-
নারী পুরুষের স্বাধীন ও অবাধ মেলামেশার ফলে সমাজে নৈতিক অধ:পতন ও সামাজিক অবক্ষয়ের যে সমস্ত রোগ দেখা যায়, তা হতে মুসলমান সমাজকে হেফাযত করার জন্য আল্লাহ পাক মহিলা-পুরুষের জন্য বাধ্যতামুলক যে নিয়মনীতি ঘোষণা করেছেন তাকে পর্দা বলা হয়। পর্দা ইসলামের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঠামো। মানুষ যেন তার পাশবিক শক্তিকে সুশৃংখল রেখে যথাযথ মানবিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে সে জন্য আল্লাহ পাক তাকে সর্বোত্তম নিয়ম-নীতি ও আইন বিধান দিয়েছেন। এ নিয়মনীতি অনুসরণের মাধ্যমেই তার মর্যাদা প্রতিষ্টিত হতে পারে। পর্দা ব্যবস্থা আল্লাহ তায়া’লার এমন একটি উত্তম বিধি-বিধান যা মানুষকে পাশবিক উশৃংখলা থেকে হেফাযত করে মানবিক মর্যাদার উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করে। পর্দা মহিলাদের মান-সম্মান, মর্যাদা রক্ষা করে। যে উদ্দেশ্য পুরুষ-মহিলারা কাপড় পরিধান করে একই উদ্দেশ্য মহিলাদের জন্য পোশাকের উপর দিয়েও আরো একটি পর্দা ব্যবহার অপরিহার্য করা হয়েছে।
#পর্দার_তাত্ত্বিক_বিশ্লেষণঃ-
মহান আল্লাহ তায়ালা মানবতার কল্যাণে অসংখ্য নিয়মাত সৃষ্টি করেছেন। এ সব আমরা প্রতিনিয়ত ভোগ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে পর্দা। যেমন- পাকা কলা একটি ফল, তা কিন্তু ঢেকে রাখার প্রয়োজন হয় না। কারণ কলাটিকে আল্লাহ পাক এমন ভাবে (পর্দা) ঢেকে দিয়েছেন, মশা-মাছি তাতে বসে না, বসলেও কোন ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু একই সত্তার সৃষ্টি খেজুর ঢেকে রাখতে হয়। তা না হলে পিঁপড়া থেকে শুরু করে মশা-মাছি, কীট-প্রতঙ্গ তাতে বসে, ভীড় জমায় এবং একটু একটু করে খেয়ে ফেলে। এই জন্য মহান আল্লাহ পাক মহিলা-পুরুষের জন্য পোশাক পরিচ্ছদের ব্যপারে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন। মহিলা-পুরুষের কর্মক্ষেত্র আলাদা করে দিয়েছেন। মহিলা যখন ঘরের বাইরে বের হবে তখন যেন তার প্রতি অন্য পুরুষের কুদৃষ্টি, কুৎসিত কামনা ও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা এবং যাতে তার উপর উপদ্রব না করতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তায়ালা বিশেষ নিয়ন্ত্রিত পোশাক পরে, সাজ-গোছ না করে অলংকারের রিমঝিম শব্দে পায়ে চলার পথ মুখরিত না করে, পারফিউমের গন্ধ না ছড়িয়ে বাইরে বেরুতে বলেছেন। মহিলাদের পুত:পবিত্র এবং পরিচ্ছন্ন রাখাই পর্দার উদ্দেশ্য। তার বাস্তব প্রমাণ আমাদের বর্তমান সমাজ, যে মহিলা বোরকা পরে, রাস্তা-ঘাটে, অফিস-আদালতে, টাউন-মাকের্টে বের হয়। যার শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পর্দার আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যার ঘোমটা দেখে বুঝা গেল না, সেই মহিলা বৃদ্ধা না যুবতী, এমন মহিলাদেরকে কোনো যুবক বা পুরুষ কি বলে সম্বোধন করবে চিন্তা করে পায় না। বাধ্য হয়ে শ্রদ্ধার সহিত খালাআম্মা না হয় চাচীআম্মা বলে ডাকে। কিন্তু যারা সাজ-গোছ করে রং বে-রংঙের পোশাক পরে অলংকারের রিমঝিম শব্দে মুখরিত করে বেড়ায়, মার্কেটিং করে সেখানে পুরুষ ও যুবকদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায় ম্যাডাম, মিসেস, আপা সম্বোধন করে। আপনি যদি একজন পুরষ হন তাহলে আপনার বিবেককেই জিজ্ঞেস করুন এর উত্তর নিশ্চয়ই পাবেন।
পর্দা সম্পর্কে আল-কোরআনের নির্দেশঃ-
আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন-
يٰۤاَيُّهَا النَّبِىُّ قُل لِّاَزۡوَاجِكَ اِنۡ كُنۡتُنَّ تُرِدۡنَ الۡحَيٰوةَ الدُّنۡيَا وَزِيۡنَتَهَا فَتَعَالَيۡنَ اُمَتِّعۡكُنَّ وَاُسَرِّحۡكُنَّ سَرَاحًا جَمِيۡلاً
হে নবী! তোমার স্ত্রীদেরকে বলো, যদি তোমরা দুনিয়া এবং তার ভূষণ চাও, তাহলে এসো আমি তোমাদের কিছু দিয়ে ভালোভাবে বিদায় করে দিই। {আয়াত-২৮ সূরা আহযাব}।
অন্য আয়াতে বলেন-
وَاِنۡ كُنۡتُنَّ تُرِدۡنَ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ وَالدَّارَ الۡاٰخِرَةَ فَاِنَّ اللّٰهَ اَعَدَّ لِلۡمُحۡسِنٰتِ مِنۡكُنَّ اَجۡرًا عَظِيۡمًا
আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও আখেরাতের প্রত্যাশী হও, তাহলে জেনে রাখো তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য আল্লাহ মহা প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। {আয়াত-২৯ সূরা আহযাব}।
অন্য আয়াতে বলেন-
يٰنِسَآءَ النَّبِىِّ مَنۡ يَّاۡتِ مِنۡكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ يُّضٰعَفۡ لَهَا الۡعَذَابُ ضِعۡفَيۡنِؕ وَكَانَ ذٰلِكَ عَلَى اللّٰهِ يَسِيۡرًا
হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ কোন সুস্পষ্ট অশ্লীল কাজ করবে তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহর জন্য এটা খুবই সহজ কাজ। {আয়াত-৩০ সূরা আহযাব}।
উম্মুল মুমিনিনগণের প্রতিদান সম্পর্কে বলেন-
وَمَنۡ يَّقۡنُتۡ مِنۡكُنَّ لِلّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖ وَتَعۡمَلۡ صَالِحًا نُّؤۡتِهَاۤ اَجۡرَهَا مَرَّتَيۡنِۙ وَاَعۡتَدۡنَا لَهَا رِزۡقًا كَرِيۡمًا
আর তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে এবং সৎকাজ করবে তাকে আমি দু’বার প্রতিদান দেবো এবং আমি তার জন্য সম্মানজনক রিযিকের ব্যবস্থা করে রেখেছি। {আয়াত-৩১ সূরা আহযাব}।
উম্মুল মুমিনিনগণের মর্যাদা সম্পর্কে বলেন-
يٰنِسَآءَ النَّبِىِّ لَسۡتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ اِنِ اتَّقَيۡتُنَّ فَلَا تَخۡضَعۡنَ بِالۡقَوۡلِ فَيَطۡمَعَ الَّذِىۡ فِىۡ قَلۡبِهٖ مَرَضٌ وَّقُلۡنَ قَوۡلاً مَّعۡرُوۡفًاۚ
হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করে থাকো, তাহলে মিহি স্বরে কথা বলো না, যাতে মনের গলদে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে, বরং পরিষ্কার সোজা ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলো। {আয়াত-৩২ সূরা আহযাব}।
নবীর পরিবারকে কেমন রাখতে চান-
وَقَرۡنَ فِىۡ بُيُوۡتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ الۡجَاهِلِيَّةِ الۡاُوۡلٰى وَاَقِمۡنَ الصَّلٰوةَ وَاٰتِيۡنَ الزَّكٰوةَ وَاَطِعۡنَ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهؕ اِنَّمَا يُرِيۡدُ اللّٰهُ لِيُذۡهِبَ عَنۡكُمُ الرِّجۡسَ اَهۡلَ الۡبَيۡتِ وَيُطَهِّرَكُمۡ تَطۡهِيۡرًاۚ
নিজেদের গৃহ মধ্যে অবস্থান করো। এবং পূর্বের জাহেলী যুগের মতো সাজসজ্জা দেখিয়ে বেড়িও না। নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো। আল্লাহ তো চান, তোমাদের নবী পরিবার থেকে ময়লা দূর করতে এবং তোমাদের পুরোপুরি পাক-পবিত্র করে দিতে। {আয়াত-৩৩ সূরা আহযাব}।
اِنَّ الۡمُسۡلِمِيۡنَ وَالۡمُسۡلِمٰتِ وَالۡمُؤۡمِنِيۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ وَالۡقٰنِتِيۡنَ وَالۡقٰنِتٰتِ وَالصّٰدِقِيۡنَ وَالصّٰدِقٰتِ وَالصّٰبِرِيۡنَ وَالصّٰبِرٰتِ وَالۡخٰشِعِيۡنَ وَالۡخٰشِعٰتِ وَالۡمُتَصَدِّقِيۡنَ وَالۡمُتَصَدِّقٰتِ وَالصّآٮِٕمِيۡنَ وَالصّٰٓٮِٕمٰتِ وَالۡحٰفِظِيۡنَ فُرُوۡجَهُمۡ وَالۡحٰفِظٰتِ وَالذّٰكِرِيۡنَ اللّٰهَ كَثِيۡرًا وَّالذّٰكِرٰتِۙ اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمۡ مَّغۡفِرَةً وَّاَجۡرًا عَظِيۡمًا
একথা সুনিশ্চিত যে, যে পুরুষ ও নারী মুসলিম, মু’মিন, হুকুমের অনুগত, সত্যবাদী, সবরকারী, আল্লাহর সামনে বিনত, সাদকাদানকারী, রোযা পালনকারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী এবং আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণকারী আল্লাহ তাদের জন্য মাগফিরাত এবং প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। {আয়াত-৩৫ সূরা আহযাব}।
সর্বসাধারণের জন্য নির্দেশনা-
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَدۡخُلُوۡا بُيُوۡتًا غَيۡرَ بُيُوۡتِكُمۡ حَتّٰى تَسۡتَاۡنِسُوۡا وَتُسَلِّمُوۡا عَلٰٓى اَهۡلِهَاؕ ذٰلِكُمۡ خَيۡرٌ لَّكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُوۡنَ
হে ঈমানদারগণ! নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না গৃহবাসীদের সম্মতি লাভ করো এবং তাদেরকে সালাম করো। এটিই তোমাদের জন্য ভালো পদ্ধতি, আশা করা যায় তোমরা এদিকে নজর রাখবে। {আয়াত-২৭ সূরা আন নুর}।
#মুমিন_মহিলাদের_উদ্দেশ্যে_সাধারণ_ফরমানঃ-
وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَهُنَّ وَلَا يُبۡدِيۡنَ زِيۡنَتَهُنَّ اِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَلۡيَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوۡبِهِنَّ وَلَا يُبۡدِيۡنَ زِيۡنَتَهُنَّ اِلَّا لِبُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اٰبَآٮِٕهِنَّ اَوۡ اٰبَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآٮِٕهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اِخۡوٰنِهِنَّ اَوۡ بَنِىۡۤ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِىۡۤ اَخَاوتِهِنَّ اَوۡ نِسَآٮِٕهِنَّ اَوۡ مَا مَلَكَتۡ اَيۡمَانُهُنَّ اَوِ التّٰبِعِيۡنَ غَيۡرِ اُولِىۡ الۡاِرۡبَةِ مِنَ الرِّجَالِ اَوِ الطِّفۡلِ الَّذِيۡنَ لَمۡ يَظۡهَرُوۡا عَلٰى عَوۡرٰتِ النِّسَآءِ وَلَا يَضۡرِبۡنَ بِاَرۡجُلِهِنَّ لِيُعۡلَمَ مَا يُخۡفِيۡنَ مِنۡ زِيۡنَتِهِنَّؕ وَتُوۡبُوۡۤا اِلَى اللّٰهِ جَمِيۡعًا اَيُّهَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ
আর হে নবী! মু’মিন মহিলাদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানগুলোর হেফাজত করে আর তাদের সাজসজ্জা না দেখায়, যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় তা ছাড়া। আর তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল দিয়ে তাদের বুক ঢেকে রাখে। তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তবে নিম্নোক্তদের সামনে ছাড়া স্বামী, বাপ, স্বামীর বাপ, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজের মেলামেশার মেয়েদের, নিজের মালিকানাধীনদের, অধীনস্থ পুরুষদের যাদের অন্য কোন রকম উদ্দেশ্য নেই এবং এমন শিশুদের সামনে ছাড়া যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। তারা যেন নিজেদের যে সৌন্দর্য তারা লুকিয়ে রেখেছে তা লোকদের সামনে প্রকাশ করে দেবার উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মু’মিনগণ! তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে তাওবা করো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে। {আয়াত-৩৫ সূরা আন নুর}।
সুরা আহযাব-এর ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫ এবং সূরা নুরের ২৭ ও ৩১ নম্বর আয়াত থেকে পর্দা সংক্রান্ত যা পাওয়া যায় তা হচ্ছেঃ-
১.অমুহাররম পুরুষের সাথে মহিলারা সুরেলা কন্ঠে, কোমল আচরণ ও মনোহরী কথাবার্তা বলতে পারবে না। কারণ এতে পুরুষের মনে কামনার আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
২.মহিলারা ঘরে অবস্থান করবে। এটাই তাদের জন্য নিরাপদ স্থান এবং স্বভাব সম্মত পরিবেশ। তবে ইসলাম প্রয়োজনে মহিলাদের বাইরে যাবার অনুমতি দিয়েছে। নামাযের জামায়াতে, জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে, হজ্বের উদ্দেশ্যে এবং সাংসারিক জরুরী কাজে বাইরে যেতে পাবে। মহিলা সাহাবীগণ এসব কাজ করার জন্য বাইরে যেতেন। এমন কি তারা আপনজনদের সাথে যুদ্ধের ময়দানেও শরীক হয়েছেন।
৩.দূরের পথ হলে কোন মুহাররম পুরুষ সাথে নিতেন।
৪.সাজগোছ দেখানো যাবে না। অলংকারের রিমঝিম শব্দ শুনানো যাবে না।
৫.পুরুষদের থেকে চোঁখ বাঁচিয়ে চলতে হবে।
৬.চাদর দিয়ে পূর্ণ শরীর ঢেকে নিতে হবে। এ উদ্দেশ্যে বোরকা ব্যবহার করা যেতে পারে।
৭.এমন পাতলা কাপড় পরা যাবে না, যাতে শরীর দেখা যায়।
৮.কাপড় ঢিলে হতে হবে যাতে শরীরের অঙ্গ বুঝা না যায়।
৯.কোন ভীড়ের মধ্যে পুরুষেদের সাথে মুখোমুখি হতে পারবে না।
১০.ঘরের বাইরে বের হলে সুগন্ধ ব্যবহার করা যাবে না।
১১.কারো সাথে কথা বলতে হলে ভাব-ভঙ্গিতে বলা যাবে না।
১২.পুরুষের কাপড় পরে বাইরে যেতে পারবে না।
১৩. সর্বোপরি লজ্জা ও আল্লাহর ভয় নিয়ে চলার জন্য বের হতে হবে।
#পর্দার_নির্দেশ_প্রসঙ্গে_তৃতীয়_যে_বিধান_পাওয়া_যায়
১.বিনা অনুমতিতে কারো ঘরে ঢুকা যাবে না, অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হবে। অনুমতি না দিলে ফিরে আসতে হবে। তিন বার সালাম দেয়া সুন্নাত। তিনবারও সালাম দিয়ে অনুমতি না পেলে ফিরে যেতে হবে। ঘরের মহিলাদের নিকট কিছু চাইতে হলে পর্দার বাইরে থেকে চাইতে হবে।
২.মহিলারা নিজেদের মুহাররম আত্মীয়, শিশু, অধীনস্তদের বাদে অন্য কারো সামনে নিজের সাজ-গোজ সৌন্দর্য দেখাতে পারবে না।
৩.মহিলারা বাইরে যেতে হলে চাদর দিয়ে নিজের শরীর পুরোপুরি ঢেকে নিতে হবে। (এমন কি মুখমন্ডলসহ, কেননা মুখই মানুষের সৌন্দর্য প্রকাশ করে)
৪.মহিলারা বাইরে যাবার সময় নিজেকে পুরোপুরি ঢেকে নেবার পর তাদের যতটুকু সৌন্দর্য হঠাৎ প্রকাশ হয়ে যায় তাতে কোন দোষ নেই।
৫.কোন বসবাসের স্থান নয়, এমন ঘরে পুরুষের বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারবে যদি সেখানে তাদের কোন সামগ্রী থাকে।
৬.পুরুষকে মহিলাদের থেকে চোখ বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তার নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে হবে।
৭.চলাফেরার সময় মহিলাদেরকে খুবই ভদ্র ও আস্তে চলতে হবে। চলার সময় পায়ের আওয়াজ শোনা যেতে পারবে না। অলংকারের আওয়াজও শোনানো যাবে না।
৮.বিশ্রাম ও ঘুমানোর সময় বুঝদার বাচ্চাদেরকে অনুমতি নিয়ে পিতা-মাতার ঘরে প্রবেশ করতে হবে।
৯.যারা বেশী বুদ্ধা, যাদের সৌন্দর্য দেখানোর সময় নেই, তারা কিছুটা গোমটা ছাড়া থাকতে পারে। তাবে পর্দার বিধান মেনে চলা ভাল। মহিলাদের যাদের সামনে সৌন্দর্য দেখতে পারবে। কুরআন শরীফে মহিলাদের সৌন্দর্য পর পুরুষের সামনে দেখাতে নিষেধ করা হয়েছে, সাজ-গোজ করে বাহিরে যাওয়া হারাম।
#সৌন্দর্য_প্রদর্শনের_অনুমতি_কতটুকু?
নিজেদের ঘরে যে সব পুরুষের সামনে মহিলাদের এসব সাজ-গোজ সৌন্দর্য দেখানো যাবে তারা হলে- (১) তাদের স্বামী, (২) তাদের পিতা-দাদা, পরদাদা ও নানা, (৩) স্বামী পিতা, (৪) তাদের পুত্র, কন্যা, পুত্রের পুত্র (নাতী), (৫) স্বামীর পুত্র অর্থাৎ স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র, (৬) আপন ভাই কিংবা সৎ ভাই, (৭) ভাইয়ের পুত্র, (৮) বোনের পুত্র, (৯) তাদের আপন মহিলারা, অর্থাৎ আত্মীয় কিংবা দ্বীনি বোন। বেপর্দা অসৎ চরিত্রের মহিলা, পুরুষের মতো যে সব মহিলা এবং অমুসলিম মহিলাদের সামনে পূর্ণ পর্দা করতে হবে। (১০) ক্রীতদাস বা চাকরাণী, (১১) অধীন চাকর ও প্রয়োজহীন পুরুষ, কারণ তার একেতো অধীন থাকার কারণে কোন প্রকার কুধারণার চিন্তা করতে পারবে না দ্বিতীয়ত: তারা যৌন প্রয়োজনহীন। এটা শারীরিক অক্ষমতার কারণে হতে পারে অথবা নির্বোধ হওয়ার কারণে হতে পার। (১২) যে সব শিশু যারা এখনও মহিলাদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অবগত নয়। কুরআন শরীফে চাচা, মামার কথা বলা হয়নি এর ব্যাখায় নবী করীম (সা) বলেছেন, চাচা পিতারই সমতুল্য সুতরাং চাচা, মামার ব্যাপারেও তাই। তাদের সম্মুখেও সাজাগোজ সৌন্দর্য প্রকাশ করা যায়।
#যে_সব_আত্মীয়দের_সামনে_পর্দা_করা_ফরযঃ-
অমুহাররাম পুরুষদের সামনে মহিলাদের পুরোপুরি পর্দা করা ফরয। তা অবশ্য মেনে চলতে হবে। বিবাহ যায়েজ, হারাম নয় এমন পুরুষদের সামনে সাজগোজ, সৌন্দর্য প্রকাশ করা নাজায়েজ, হারাম। পুরুষেরাও অমুহাররাম মহিলাদের সামনে বের হতে পারবে না। তারা যতই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হোন না কেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের সমাজে যারা গতানুগতিক পর্দা করেন তারাও ঘনিষ্ট আত্মীয়দের সামনে পর্দা করেন না।
অথচ আল্লাহ ও রাসুলের (সা) বিধান একজন মহিলাকে স্বামীর সব ধরনের ভাই যেমন, দুলাভাই, চাচাতো, খালাতো, ফুফাতো, মামাতো ভাইদের থেকে পর্দা করতে হবে। আবার পুরুষদেরকেও ভাবী, তালতো বোন, চাচা, খালা, মামা এ জাতীয় বোনদের থেকে পর্দা করতে হবে। যদি যারা এ বিধান অমান্য করেন তবে তিনি আল্লাহ ও রাসুলের (সা) ফরয করা বিধান অমান্য করলেন।
নারী-পুরুষের উভয়ের দৃষ্টি সংযমের নির্দেশনাঃ-
নারীদের জন্যও পুরুষদের মতো দৃষ্টি সংযমের একই বিধান রয়েছে। কিন্তু পুরুষদের পক্ষে মেয়েদেরকে দেখার তুলনায় মেয়েদের পক্ষে পুরুষদেরকে দেখার ব্যাপারে কিছু ভিন্ন বিধান রয়েছে।
দৃষ্টির ব্যাপারে হাদীসের বক্তব্যঃ-
একদিন হযরত উম্মে সালামাহ ও হযরত উম্মে মাইমূনাহ নবী সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসেছিলেন এমন সময় হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম এসে গেলেন। নবী ﷺ উভয় স্ত্রীকে বললেন-“তার থেকে পর্দা করো।” স্ত্রীরা বললেন- “হে আল্লাহর রসূল! তিনি কি অন্ধ নন? তিনি আমাদের দেখতে পাচ্ছেন না এবং চিনতেও পাচ্ছেন না।” বললেনঃ “তোমরা দুজনও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখতে পাচ্ছো না?
”হযরত উম্মে সালামাহ (রা.) পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, এটা যখন পর্দার হুকুম নাযিল হয়নি সে সময়কার ঘটনা।” (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী)।
মুআত্তার একটি রেওয়ায়াত এর সমর্থন করে, যাতে বলা হয়েছেঃ হযরত আয়েশার {রাঃ} কাছে একজন অন্ধ এলেন এবং তিনি তার থেকে পর্দা করলেন। বলা হলো, আপনি এর থেকে পর্দা করছেন কেন? এতো আপনাকে দেখতে পারে না। উম্মুল মু’মিনীন (রা.) এর জবাবে বললেনঃ “কিন্তু আমি তো তাকে দেখছি।”
অন্যদিকে আমরা হযরত আয়েশার একটি হাদীস পাই, তাতে দেখা যায়, ৭ হিজরী সনে হাবশীদের প্রতিনিধি দল মদীনায় এলো এবং তারা মসজিদে নববীর চত্বরে একটি খেলার আয়োজন করলো। নবী ﷺ নিজে হযরত আয়েশাকে এ খেলা দেখালেন। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ)।
আরও একটি হাদিস-
ফাতেমা বিনতে কায়েসকে যখন তাঁর স্বামী তিন তালাক দিলেন তখন প্রশ্ন দেখা দিল তিনি কোথায় ইদ্দত পালন করবেন। প্রথমে নবী করীম ﷺ বললেন, উম্মে শরীক আনসারীর কাছে থাকো। তারপর বললেন, তার কাছে আমার সাহাবীগণ অনেক বেশী যাওয়া আশা করে (কারণ তিনি ছিলেন একজন বিপুল ধনশালী ও দানশীলা মহিলা। বহু লোক তাঁর বাড়িতে মেহমান থাকতেন এবং তিনি তাদের মেহমানদারী করতেন।) কাজেই তুমি ইবনে উম্মে মাকতুমের ওখানে থাকো। সে অন্ধ। তুমি তার ওখানে নিঃসংকোচে থাকতে পারবে।” (মুসলিম ও আবু দাউদ)
এসব বর্ণনায় জানা যায়, পুরুষদেরকে দেখার ব্যাপারে মহিলাদের ওপর তেমন বেশী কড়াকড়ি নেই যেমন মহিলাদেরকে দেখার ব্যাপারে পুরুষের ওপর আরোপিত হয়েছে।
লেখার পরিধি বড় হয়ে যাবে তাই সহীহ হাদিসের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য,,,,
হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত আবু হুরায়রা {রাঃ} এরপরেই স্থান উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা {রাঃ}।
১} মেয়েরা রাসুলুল্লাহ {সাঃ} এর কাছে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা লাভের দাবি জানান।
২} মেয়েরা মসজিদে নববীতে সাধারণ অধিবেশনে উপস্থিত হতেন।
৩} উম্মুল মুমিনীন হযরত যয়নাব বিনতে জাহশ {রাঃ} নিজ হাতে উপার্জন করতেন এবং তা দান করে দিতেন।
৪} হযরত ইবনে মাসউদ {রাঃ} এর স্ত্রী নিজ হাতে উপার্জন করতেন এবং তাঁর স্বামী ও ইয়াতিম ছেলে-মেয়েদের ভরণ পোষণ করতেন।
৫} হযরত উম্মে আতিয়া {রাঃ} তাঁর স্বামীর সাথে ছয়টি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
৬} হযরত উম্মে হারাম {রাঃ} সমুদ্রপথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে শাহাদাতের মৃত্যু কামনা করতেন।
৭} হযরত উম্মে হানী {রাঃ} কে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে তাঁর ভাই বাধা দিলে রাসুলুল্লাহ {সাঃ} এর নিকট তিনি অভিযোগ পেশ করেন।
৮} হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর {রাঃ} এর ফতোয়ায় কোনরূপ সংশোধন বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তাঁর বোন হযরত হাফসা {রাঃ} তা সম্পন্ন করতেন।
৯} হযরত আসমা বিনতে শিকল {রাঃ} ইসলামের শিক্ষা লাভের ব্যাপারে কোনরূপ সংকোচ বোধ করতেন না।
১০} হযরত উমর {রাঃ} এর স্ত্রী আতেকা বিনতে যায়েদ তাঁর অধিকার প্রকাশ্য জনসমক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে বা উপস্থিত হয়ে আদায় করেন।
১১} যুবতী মেয়ে হযরত উম্মু কুলছুম {রাঃ} ইসলাম গ্রহণ করে পরিবার পরিজন ছেড়ে মদীনায় হিজরত করেন।
১২} জনৈক মহিলা সাহাবী {রাঃ} তাঁর স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে তাঁর অধিকার প্রয়োগে অবিচল থাকেন।
১৩} হযরত সাবী’আত বিনতে হারেছ {রাঃ{ কোন জটিল বিষয়ে কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তা উত্তমভাবে জানতেন।
১৪} হযরত উম্মে দারদা {রাঃ} আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের শাসনকে প্রকাশ্যে ঘৃণা করতেন।
১৫} খাস’আমিয়ার এক যুবতী মেয়ে তা পিতার পক্ষ থেকে বদলি হজ্জ আদায় করেন।
১৬} হিন্দ বিনতে উতবাহ ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসুলুল্লাহ {সাঃ} কে সালাম জানান।
১৭} যয়নাব বিনতে আল মুহাজির হযরত আবু বকর সিদ্দিক {রাঃ} এর সাথে কথা বলতেন।
১৮} উম্মে ইয়াকুব হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ {রাঃ} এর সাথে কথা বলতেন।
জীবনে নারী ও পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও অবস্থান সম্পর্কীয় বিষয়াদির ক্ষেত্রে ইসলামের সুমহান শিক্ষাকে তুলে ধরা একান্ত প্রয়োজন। সামাজিক জীবনের সুখ-সমৃদ্ধি ও আদর্শ সমাজ গঠনে নারীর দায়-দায়িত্ব এবং ভূমিকাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সময়ের দাবি।
লেখক :- সভাপতি, বিশ্বনাথ কেন্দ্রীয় সাহিত্য সংসদ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, মাসিক বিশ্বনাথ ডাইজেস্ট, বিশ্বনাথ, সিলেট।
Posted ৯:৩০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৪
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।