নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট | 340 বার পঠিত
আত্মশুদ্ধি কিংবা আত্মার উৎকর্ষ সাধনই হচ্ছে তাসাউউফ শাস্ত্রের মূলকথা। দেহের সুস্থতার মত মনের সুস্থতাও প্রকৃত মু’মিনের জীবনে অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়। মানবদেহ যেমন কখনো কখনো বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়, মানবহৃদয়ও তেমনি কখনো কখনো বিভিন্ন রকম রোগের কবলে পড়ে। অহংকার-অহমিকা, হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, পরনিন্দা, সম্পদ ও পদমর্যাদার মোহ ইত্যাদি বিষয়গুলো মানবমনের এতটাই ক্ষতিকর রোগ যে, এগুলো থেকে পরিত্রাণ না মিললে ঈমানী জীবনে উন্নতি সাধন করা কোনক্রমেই সম্ভব নয়।
এ কারণে পবিত্র কুরআনের একাধিক সূরায় সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরীত হওয়ার যে চারটি উদ্দেশ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তন্মধ্যে একটি হল “তিনি তোমাদেরকে বাহ্যিক ও আত্মিক অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করবেন”। এ থেকে খুব সহজেই এই সত্য প্রমাণিত হয় যে, মানবকুলের মুক্তিদূত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চার কর্তব্যের তৃতীয় কর্তব্য হচ্ছে পবিত্রকরণ। বাহ্যিক না-পাকী বা অপবিত্রতার বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণ থেকে অতি সাধারণ মুসলমানেরাও অবগত। আর আত্মিক অপবিত্রতা হচ্ছে কুফর, শিরক, অহংকার, হিংসা, শত্রুতা, সম্পদ ও পদ-পদবীর মোহ ইত্যাদি।
পবিত্রকরণকে হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পৃথক একটি কর্তব্য সাব্যস্ত করে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, কোন শাস্ত্র পুঁথিগতভাবে শিখলেই তার প্রয়োগ ও পূর্ণতা অর্জিত হয় না, বরং প্রয়োগ ও পূর্ণতা অর্জন করতে চাইলে গুরুজনের শিক্ষাধীনে এবং তাঁর সংস্পর্শে থেকে কঠোর অনুশীলনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। তাসাউউফ বা সুফীবাদে একজন কামিল পীরের কর্তব্য ও তাই। (তাফসীরে মা’আরিফুল কুরআান)
উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে কুরআন-সুন্নাহকে সামনে রেখে বড় বড় সাধক ও বুজুর্গানে দ্বীন এই অঙ্গনে ঈর্ষণীয় অনেক কাজ করে গেছেন। বড়ই পরিতাপের বিষয় হল আজকের দুনিয়ায় আমরা ঈমানদারেরা আত্মার উৎকর্ষ সাধনের প্রতি কোনরূপ গুরুত্বই দিতে প্রস্তুত নই। ফলশ্রুতিতে ঈমান ও নেক আমলের স্বাদ অনেকাংশেই হৃাস পেয়েছে। যেমন হাদীস শরীফে হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন” যে বিনয় অবলম্বন করবে মহান আল্লাহ তার সম্মান নিশ্চিত করবেন” (মুসনাদে আহমদ) অন্য আরেকে হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ বলেন: অহংকার আমার চাদরের মত আর বড়ত্ব আমার লুঙ্গির মত, যে ব্যক্তি এই দুটির কোন একটি আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।
(মুসনাদে আহমদ,আবূ দাউদ,ইবনে মাজ্বাহ)
অংকার সম্পর্কে প্রিয় নবী হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বলেছেন “যার অন্তরে শরিষার দানা পরিমাণও অহংকার থাকবে সে কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না”(সুনানে আবুদাউদ)।
অহংকার মানুষকে বেপরোয়া করে দেয় জুলুম করতে প্রস্তুত করে তোলে। তাই সদা মনে রাখতে হবে, অহংকারী মনোভাব থেকে সৃষ্ট সকল সমস্যার সমাধান প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কোন প্রকার কুটচাল দেওয়া নয় বরং বিনয় নামক ঈমানী গুণটিই এখানে প্রথম ও প্রধানতম সমাধান। বিদগ্ধ গবেষকদের মতে অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে নিজেকে তুচ্ছ ও ছোট মনে করাই হচ্ছে তাসাউউফের মূলমন্ত্র। অহংকার নামের এই একটি আত্মিক রোগ নিয়ে উপরোল্লিখিত কিঞ্চিত আলোচনা যেন আমাদের পরিবর্তনের উপকরণ হয় পরম করুণাময়ের নিকট নিজের জন্য এবং সকল ঈমানদার ভাই-বোনের জন্য সেই দোয়াই করি।
এমনি ভাবে হিংসা হচ্ছে মানব জীবনের আরেকটি ভয়ংকর রোগ। হযরত আদম আলাইহিস সালামের পুত্রদ্বয় হাবিল ও কাবিলের শিক্ষণীয় কুরআনী ইতিহাস থেকে আজ পর্যন্ত এই রোগের পরিণাম ও পরিণতি সংক্রান্ত অসংখ্য ঘটনা বারংবার পাঠ করেও কেন যেন আমরা হিংসার আগুনে দগ্ধ হওয়াটাকেই বেছে নিয়েছি। অথচ হাদীস শরীফের ভাষায় আগুন যেমন লাকড়িকে খেয়ে ফেলে হিংসাও তেমন নেকীসমূহকে খেয়ে ফেলে। অন্য কারো কোন ভাল কিছু দেখে সহ্য করতে না পারার অর্থই হচ্ছে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্তে আপত্তি করা! এই অধিকার তো আমার নেই। কারণ আরেকজনের সেই নেয়ামতটি তো আল্লাহই তাঁকে দিয়েছেন! আল্লাহ আমাদেরকে আত্মিক পবিত্রতা অর্জনের তাওফীক্ব দিন, আমীন।
লেখক : মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
মহাপরিচালক – ও – শায়খুল হাদীস – জামিয়া ইসলামিয়া, ইসলামবাগ, মাদ্রাসা ( ঢাকা -)।
Posted ৩:৩৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৩
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।