| শনিবার, ০৪ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট | 279 বার পঠিত
মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার: মহানবীর যেসব ফযীলত বা মহিমা হাদীসে প্রমাণিত,তা আল্লাহর রাসূল হিসেবে তার স্মারক। তিনি গোটা নিখিলে আল্লাহর সত্যের প্রতিনিধি। আল্লাহর ইচ্ছাও মহিমার বিঘোষক। তার সত্তাও গুণাবলীতে থাকবে সেই ইচ্ছাও মহিমার যথোচিত প্রতিফলন। ফলে খোদাপ্রদত্ত এমন অনন্য গুণাবলীও সম্মান তার অধিত ছিল,যা অতুলনীয়,অস্লান। এই মহিমাসমগ্রের ধারক এই নিখিলে কোনো দ্বিতীয় মানুষ নেই,ছিলেন না,আসবে না কখনো।
কারণ মানুষ সাধনার মাধ্যমে অর্জন করতে পারে না, সত্যমগ্নতা,সত্যদর্শনও সত্যযাপনের এমন এক স্তরের নাম নবুয়ত। সেই স্তরে কেউ আসীন হতে পারেন কেবলই আল্লাহর নির্বাচনে,আপন সাধনার ফলে নয়। ফলে নবীগণ সাধারণ থেকে আলাদা,সকল সাধকও মনীষী থেকেও আলাদা। সেই নবীও রাসূলদের সর্বোচ্চ,সর্বশ্রেষ্ঠও সর্বশেষ সত্তা হচ্ছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর মর্যাদা সবার ওপরে। তাকে আল্লাহ পাক যা দান করেছেন, এর সংখ্যা অগণন,প্রসারতা আমাদের আওতার অধিক, গভীরতা আমাদের বোধের অতীত,বৈচিত্র আমাদের মুগ্ধতাকেও বিস্ময়ে বিহ্বল করে দেয়,যা অতিক্রম করে বেশি দূর যাওয়া যায় না।
কিন্তু মহানবীর মহিমা এমনই, সেখানে যতদূর যাওয়া হবে,মনে হবে,এক মহাপৃথিবীর সীমানায় প্রবেশ করলাম এইমাত্র । মহানবীর মর্যাদা বা ফযীলত এমন কিছু,যার বিবরণ আমরা আল্লাহ কর্তৃক আগত সেই ভাব থেকে লাভ করতে পারি,যেভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন জবানে উপস্থাপন করেছেন। অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় ভাষিকতা প্রাপ্ত আল্লাহর একান্ত মর্মকে শুনতে পারি। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মর্যাদা এমন সব ঐশী বিশেষত্ব রয়েছে, যা না কোনো নবী লাভ করেছেন,না কোনো রাসুল। এই বিষয়ে হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা: বর্ণনা করেন, নবীয়ে পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণা- আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে,যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি। (১-) আমার সাহায্য করা হয়েছে এমন অপূর্ব প্রভাব দিয়ে,এক মাস দূরত্বেও যা প্রতিফলিত হয়;
(২-)সমস্ত যমীনকে আমার জন্য করা হয়েছে মুসাল্লা,নামাজ সালাত আদায়ের উপযোগী; পবিত্র। কাজেই আমার উম্মতের যে কোনো লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে;
(৩-) আমার জন্য হালাল করা হয়েছে গনীমতের মাল,যা আমার আগে আর কারো জন্য হালাল ছিল না। ( ৪-) আমাকে দেওয়া হয়েছে শাফায়েতর অধিকার;(৫-) আর সব প্রেরিত হতেন কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য,আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্য।
আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য দ্বিন হিসেবে ইসলামকে নির্বাচন করেছেন। আর পরিপূর্ণ দ্বিন মানার নামই হচ্ছে ইসলাম। আংশিক মানলাম আর কিছু অমান্য করলাম এটার নাম দ্বিন-ইসলাম নয়। ইরশাদ হয়েছে,‘হে ঈমানদাররা,তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না।
নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা: বাকারা,আয়াত : ২০৮) আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে তার একটি দিক ভালো থাকলে অন্যদিকে আবার মন্দ। সমাজে এমন বহু মানুষ পাওয়া যাবে,যারা খুব নামাজে পাবন্দি,প্রথম কাতারে নামাজ আদায় করে,খুব আল্লাহভীরু। কিন্তু সে আত্মীয়তার হক রক্ষা করে না।
আবার অনেককে এমন পাবেন, আত্মীয়তার ব্যাপারে খুবই সচেষ্ট; কিন্তু সে সন্তানদের ব্যাপারে খুব উদাসীন। সন্তানদের হক ঠিকমতো আদায় করে না। আবার কাউকে পাবেন সন্তানদের হক ঠিকমতো আদায় করে; কিন্তু সে মা-বাবার অবাধ্য সন্তান। অথবা তার লেনদেন খুবই খারাপ। অথচ ইসলাম এগুলোর কোনোটি সমর্থন করে না। অনেক মানুষ এমনও আছে, যারা মা-বাবার সঙ্গে খুবই সদ্ব্যবহার করে; কিন্তু সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে না। অথবা এমনও পাওয়া যাবে, স্ত্রীর সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে চলে; কিন্তু সে তার প্রতিবেশীর হক রক্ষা করে না। প্রতিবেশীর সঙ্গে সে দুর্ব্যবহার করে। অথচ হাদিসে প্রতিবেশীর হকের কথা জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়েছে।
অনেকে আবার এমন রয়েছে, যে ব্যক্তিগত কাজগুলো খুব গুরুত্বসহ পালন করার চেষ্টা করে; কিন্তু সামাজিক যেসব কাজ আছে,তার ওপর যেসব দায়িত্ব রয়েছে,সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন।
আমাদের মাঝে এমন অনেক দ্বিনদার মানুষ আছে,যারা ফরজ বিধানের ব্যাপারে খুব যত্নবানও সচেষ্ট। কিন্তু ইসলামের যেসব আদাব বা শিষ্টাচার আছে,এগুলোর ব্যাপারে একদমই উদাসীন। সালাম দেওয়া,খাওয়াও পান করা এবং মজলিশের আদবও কথাবার্তার যেসব আদব আছে এগুলোর ব্যাপারে তার তেমন গুরুত্ব নেই। অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন,‘আমি সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। ’(আল-আদাবুল মুফরাদ,হাদিস :২৭৩)
অথচ ইসলাম আংশিক কোনো বিষয়কে মানার নাম নয়। এসব হচ্ছে ইসলামের বিকৃত উপস্থাপন। প্রিয় নবী (সা.) আমাদের যা কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছেন,সবই অনুসরণ করানো হচ্ছে ইসলাম। রাসুল (সা.) আমাদের কাছে যে নুর নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবে। আর তখনই ব্যক্তি,পরিবার,সমাজও রাষ্ট্র সব জায়গায় শান্তির বাতাস বইতে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,‘হে কিতাবিরা,তোমাদের কাছে আমার এই রাসুল এসে পড়েছে,যে (তাওরাতও ইনজিল) গ্রন্থের এমন বহু কথা তোমাদের কাছে প্রকাশ করে,যা তোমরা গোপন কর এবং অনেক বিষয় এড়িয়ে যাও। আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক জ্যোতি এবং এমন এক কিতাব এসেছে,যা(সত্যকে)সুস্পষ্ট করে। যার মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে,তাদের শান্তির পথ দেখান এবং নিজ ইচ্ছায় তাদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দেন।(সুরা : মায়িদা,আয়াত:১৫,১৬)
অন্যত্র ইরাশাদ হয়েছে,‘.তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া তাদের কী প্রতিফল হতে পারে? আর কিয়ামতের দিন তাদের কঠিন আজাবে নিক্ষেপ করা হবে। আর তোমরা যা করো,সে সম্পর্কে আল্লাহ উদাসীন নন। ’(সুরা: বাকারা,আয়াত : ৮৫)
আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে তাঁহার হুকুম আহকাম মোতাবেক জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন আমীন।
লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বাংলা পোস্ট ।

সব কাজেই আল্লাহর নির্দেশনা পালন করা অপরিহার্য
মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :বাংলা পোস্ট ( নিউজ পোর্টাল -) পুনরায় চালু হয়েছে । দখলকারীদের কবল থেকে মুক্ত ।
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন । আসসালাতু ওয়াসসালামু আলা – সাইয়্যিদিল মুরসালিন । ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহী আজমাঈন । আম্মাবাদ । মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করছি । দীর্ঘ নয় মাস পর অনেক চেষ্টার বদৌলতে গতকাল রাত ( ৪ মার্চ ২০২৩-) শনিবার, সারাটি রাত এবং আজকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত জেগে থেকে কাজ করে আমার এই নিউজ পোর্টাল -( বাংলা পোস্ট -) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে কিছু দুষ্কৃতকারীদের দখলে ছিল। তাদের কাছ থেকে আজ আমার অনুকূলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি । আমার এই নিউজ পোর্টালটি আমি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে শুরু করেছিলাম । তখন শুরু থেকে গত দেড় দুই বছর পাঠক দর্শক শ্রোতাদের অনেক সাড়া পেয়েছি । কিন্তু আমি গত ২৫ জুলাই ২০২২ সালে রোড এক্সিডেন্ট করে যখন অসুস্থ ছিলাম তখন থেকে আমার এই নিউজ পোর্টালটি একটি বিশেষ গোষ্ঠীরা তাদের দখলে নিয়ে যায় । এমতাবস্থায় এই মুহূর্তে বেশ কিছু আর বলতে চাইনা । ইনশাআল্লাহ সময়মত বিস্তারিত তুলে ধরা হবে । আজ ( ৪ মার্চ ২০২৩-) আবারও পুণরায় আমার এই নিউজ পোর্টাল বাংলা পোস্ট যথারীতি তার চলা শুরু হয়েছে । এতে আপনাদের সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি । পত্রিকাটি উদ্ধার করতে আমাকে যে বা যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি । মহান আল্লাহ তায়ালা যেন বাদবাকি সময়গুলো আমাকে কাজ করে যাবার তৌফিক দান করুন আমীন ।
এখন আলোচ্য লেখাটি শুরু করলাম:-
মহানবীর যেসব ফযীলত বা মহিমা হাদীসে প্রমাণিত,তা আল্লাহর রাসূল হিসেবে তার স্মারক। তিনি গোটা নিখিলে আল্লাহর সত্যের প্রতিনিধি। আল্লাহর ইচ্ছাও মহিমার বিঘোষক। তার সত্তাও গুণাবলীতে থাকবে সেই ইচ্ছাও মহিমার যথোচিত প্রতিফলন। ফলে খোদাপ্রদত্ত এমন অনন্য গুণাবলীও সম্মান তার অধিত ছিল,যা অতুলনীয়,অস্লান। এই মহিমাসমগ্রের ধারক এই নিখিলে কোনো দ্বিতীয় মানুষ নেই,ছিলেন না,আসবে না কখনো।
কারণ মানুষ সাধনার মাধ্যমে অর্জন করতে পারে না, সত্যমগ্নতা,সত্যদর্শনও সত্যযাপনের এমন এক স্তরের নাম নবুয়ত। সেই স্তরে কেউ আসীন হতে পারেন কেবলই আল্লাহর নির্বাচনে,আপন সাধনার ফলে নয়। ফলে নবীগণ সাধারণ থেকে আলাদা,সকল সাধকও মনীষী থেকেও আলাদা। সেই নবীও রাসূলদের সর্বোচ্চ,সর্বশ্রেষ্ঠও সর্বশেষ সত্তা হচ্ছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর মর্যাদা সবার ওপরে। তাকে আল্লাহ পাক যা দান করেছেন, এর সংখ্যা অগণন,প্রসারতা আমাদের আওতার অধিক, গভীরতা আমাদের বোধের অতীত,বৈচিত্র আমাদের মুগ্ধতাকেও বিস্ময়ে বিহ্বল করে দেয়,যা অতিক্রম করে বেশি দূর যাওয়া যায় না।
কিন্তু মহানবীর মহিমা এমনই, সেখানে যতদূর যাওয়া হবে,মনে হবে,এক মহাপৃথিবীর সীমানায় প্রবেশ করলাম এইমাত্র । মহানবীর মর্যাদা বা ফযীলত এমন কিছু,যার বিবরণ আমরা আল্লাহ কর্তৃক আগত সেই ভাব থেকে লাভ করতে পারি,যেভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন জবানে উপস্থাপন করেছেন। অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় ভাষিকতা প্রাপ্ত আল্লাহর একান্ত মর্মকে শুনতে পারি। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মর্যাদা এমন সব ঐশী বিশেষত্ব রয়েছে, যা না কোনো নবী লাভ করেছেন,না কোনো রাসুল। এই বিষয়ে হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা: বর্ণনা করেন, নবীয়ে পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণা- আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে,যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি। (১-) আমার সাহায্য করা হয়েছে এমন অপূর্ব প্রভাব দিয়ে,এক মাস দূরত্বেও যা প্রতিফলিত হয়;
(২-)সমস্ত যমীনকে আমার জন্য করা হয়েছে মুসাল্লা,নামাজ সালাত আদায়ের উপযোগী; পবিত্র। কাজেই আমার উম্মতের যে কোনো লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে;
(৩-) আমার জন্য হালাল করা হয়েছে গনীমতের মাল,যা আমার আগে আর কারো জন্য হালাল ছিল না। ( ৪-) আমাকে দেওয়া হয়েছে শাফায়েতর অধিকার;(৫-) আর সব প্রেরিত হতেন কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য,আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্য।
আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য দ্বিন হিসেবে ইসলামকে নির্বাচন করেছেন। আর পরিপূর্ণ দ্বিন মানার নামই হচ্ছে ইসলাম। আংশিক মানলাম আর কিছু অমান্য করলাম এটার নাম দ্বিন-ইসলাম নয়। ইরশাদ হয়েছে,‘হে ঈমানদাররা,তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না।
নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা: বাকারা,আয়াত : ২০৮) আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে তার একটি দিক ভালো থাকলে অন্যদিকে আবার মন্দ। সমাজে এমন বহু মানুষ পাওয়া যাবে,যারা খুব নামাজে পাবন্দি,প্রথম কাতারে নামাজ আদায় করে,খুব আল্লাহভীরু। কিন্তু সে আত্মীয়তার হক রক্ষা করে না।
আবার অনেককে এমন পাবেন, আত্মীয়তার ব্যাপারে খুবই সচেষ্ট; কিন্তু সে সন্তানদের ব্যাপারে খুব উদাসীন। সন্তানদের হক ঠিকমতো আদায় করে না। আবার কাউকে পাবেন সন্তানদের হক ঠিকমতো আদায় করে; কিন্তু সে মা-বাবার অবাধ্য সন্তান। অথবা তার লেনদেন খুবই খারাপ। অথচ ইসলাম এগুলোর কোনোটি সমর্থন করে না। অনেক মানুষ এমনও আছে, যারা মা-বাবার সঙ্গে খুবই সদ্ব্যবহার করে; কিন্তু সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে না। অথবা এমনও পাওয়া যাবে, স্ত্রীর সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে চলে; কিন্তু সে তার প্রতিবেশীর হক রক্ষা করে না। প্রতিবেশীর সঙ্গে সে দুর্ব্যবহার করে। অথচ হাদিসে প্রতিবেশীর হকের কথা জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়েছে।
অনেকে আবার এমন রয়েছে, যে ব্যক্তিগত কাজগুলো খুব গুরুত্বসহ পালন করার চেষ্টা করে; কিন্তু সামাজিক যেসব কাজ আছে,তার ওপর যেসব দায়িত্ব রয়েছে,সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন।
আমাদের মাঝে এমন অনেক দ্বিনদার মানুষ আছে,যারা ফরজ বিধানের ব্যাপারে খুব যত্নবানও সচেষ্ট। কিন্তু ইসলামের যেসব আদাব বা শিষ্টাচার আছে,এগুলোর ব্যাপারে একদমই উদাসীন। সালাম দেওয়া,খাওয়াও পান করা এবং মজলিশের আদবও কথাবার্তার যেসব আদব আছে এগুলোর ব্যাপারে তার তেমন গুরুত্ব নেই। অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন,‘আমি সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। ’(আল-আদাবুল মুফরাদ,হাদিস :২৭৩)
অথচ ইসলাম আংশিক কোনো বিষয়কে মানার নাম নয়। এসব হচ্ছে ইসলামের বিকৃত উপস্থাপন। প্রিয় নবী (সা.) আমাদের যা কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছেন,সবই অনুসরণ করানো হচ্ছে ইসলাম। রাসুল (সা.) আমাদের কাছে যে নুর নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবে। আর তখনই ব্যক্তি,পরিবার,সমাজও রাষ্ট্র সব জায়গায় শান্তির বাতাস বইতে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,‘হে কিতাবিরা,তোমাদের কাছে আমার এই রাসুল এসে পড়েছে,যে (তাওরাতও ইনজিল) গ্রন্থের এমন বহু কথা তোমাদের কাছে প্রকাশ করে,যা তোমরা গোপন কর এবং অনেক বিষয় এড়িয়ে যাও। আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক জ্যোতি এবং এমন এক কিতাব এসেছে,যা(সত্যকে)সুস্পষ্ট করে। যার মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে,তাদের শান্তির পথ দেখান এবং নিজ ইচ্ছায় তাদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দেন।(সুরা : মায়িদা,আয়াত:১৫,১৬)
অন্যত্র ইরাশাদ হয়েছে,‘.তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া তাদের কী প্রতিফল হতে পারে? আর কিয়ামতের দিন তাদের কঠিন আজাবে নিক্ষেপ করা হবে। আর তোমরা যা করো,সে সম্পর্কে আল্লাহ উদাসীন নন। ’(সুরা: বাকারা,আয়াত : ৮৫)
আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে তাঁহার হুকুম আহকাম মোতাবেক জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন আমীন।
লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বাংলা পোস্ট ।
Posted ৫:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ মার্চ ২০২৩
banglapostbd.news | S A
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।