নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | 164 বার পঠিত
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে প্রতিনিয়ত। ফ্যাশনেও সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া আসে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। আগের বছরের ফ্যাশন অনেক ক্ষেত্রেই হাল ফ্যাশনে রাখে তার পদচারণা। অনেক ক্ষেত্রে বেশকিছু আগের বছরের কাটিং, ডিজাইন কিংবা কালারের কম্বিনেশন ফিরে আসে নতুনত্বের সঙ্গে। বছর শেষ হয়ে এলেও থাকে সেই বছরের সেই সময়ের কিংবা ঋতুভেদে ফ্যাশনের বৈচিত্র্য। ২০২৩ সালের এ বছরটিতেও ছিল না তার ভিন্নতা। বছরজুড়ে ফ্যাশন হাউজগুলোতেও থাকে তাই ব্যস্ততা। বারো মাসের তেরো পার্বণসহ ঈদ, পূজা, বৈশাখের সেই পোশাকের ভিন্নতা মাথায় রেখে সাজানো হয় সামনের বছরের নতুন পোশাকের সাজসজ্জা। নতুন বছরকে ঘিরে পুরোনোর সেই আবহ থাকে বছরের পর বছর। বছর শেষের আয়োজনে চলুন জেনে নিই সে সম্পর্কেই।
বিপ্লব সাহা
ফ্যাশন ডিজাইনার, স্বত্বাধিকারী, বিশ্বরঙ
পোশাকে ফ্যাশনের পরিবর্তন এক চলমান ধারা। অনেকটা স্রোতের মতোই অনেক কিছু নিয়ে আবার অনেকটা পরিবর্তন নিয়েই কিন্তু ফ্যাশনের আসা যাওয়ার পালা। যে কোনো জায়গার অবস্থান ভেদেই মূলত সেই জায়গার পোশাকের ধরন পরিবর্তিত হয়। সেই ধারায় ক্লাসিক, ওয়েস্টার্ন মিক্সভাবেও বারবার বছরে বছরে ফিরে আসে। সেদিক থেকে বিশ্বরঙ দেশীয় সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য নিয়েই বরাবর কাজ করে ঈদ, পূজা, বৈশাখ, বসন্ত বরণসহ নানা আয়োজনে। তবে এ বছরের আলোকে বললে আমাদের রঙের কাজের ক্ষেত্রে যেমন ডার্ক, প্যাস্টেল, গোল্ড প্রিন্ট, সিকুয়েন্স বা সি থ্রু কাপড়ের ব্যবহার ছিল। আর ব্রাইট কালারের ক্ষেত্রে মেজেন্টা, ইয়েলো কাপড়ের ক্ষেত্রে সেমি লং ছিল। তবে গত বছরের ক্ষেত্রে রং কিংবা একই ডিজাইনের পোশাক পরার পরিবারের মাঝে যেই প্রবণতা ছিল এ ফ্যাশনটি বেড়েছে এবং বছর ঘুরেও তা কিন্তু এখন আছে।
সৌমিক দাস
ফ্যাশন ডিজাইনার, স্বত্বাধিকারী, রঙ বাংলাদেশ
বিশ্বায়নের এ যুগে ফ্যাশন এক নতুন আত্মপরিচয়ের নাম। হাল ফ্যাশনের প্রতিনিয়ত আপডেট এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় সবার হাতের নাগালেই থাকছে। তবে পোশাকের ক্ষেত্রে মেয়েদের আউটফিট ঘিরেই পরিবর্তন ছিল সবচেয়ে বেশি। তো সেই ধারাতে আমাদের পোশাকের মাঝেও ছিল বেশ নতুনত্ব আর পরিবর্তন। বিশেষ করে ঝুল আর হাতার দিকের কাজে। আর কাপড়ের দিকে দেশীয় কাপড় বাদেও বাইরের দেশ থেকে আসা কাপড়ের ব্যবহারও ছিল এ বছরে। সুতির কাপড়ের মাঝে আরও সেগমেন্ট আসায় কাজ করার পরিধি বেড়েছে। যার কারণে সামনের বছরে সুতির কাপড়ের ব্যবহার বাড়বে। তবে ছেলেদের পোশাকে জিওমেট্রিক বা ফ্লোরাল প্রিন্টের কাজ আগের চেয়ে বেড়েছে। আর যেহেতু রঙ বাংলাদেশ থিম নিয়ে কাজ করে এ বছরও ব্যতিক্রম ছিল না তার। তবে চলমান এ ফ্যাশনের ধারায় খুব বড় পরিবর্তন মূলত হুট করেই আসে না। তাই কালার টোনের ক্ষেত্রেও গত বছর যেমন ছিল এ বছরও সেই শেডই ছিল।
এস.এম. খালেদ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সারা লাইফস্টাইল লিমিটেড
মূলত দেশীয় কাপড় ঘিরেই আমাদের বছরজুড়ে থাকে পরিকল্পনা। সে হিসাবে ঋতুভেদে যেমন শীতের এ সময়কালে প্রায় ১০০ ধরনের জ্যাকেট, ডেনিম, ওয়েস্টার্নের বেশ কিছু নতুন কাজ আছে এ মুহূর্তে। এ ছাড়া ঈদের সময়কালে থিম অনুযায়ী মুঘল আয়োজনে কুর্তি, এথনিক, পাঞ্জাবি, লঙের কাজ ছিল। সেই আলোকেই অনেক কারুকাজ কিংবা ডিজাইনের ব্যবহার এর আগের বছরও লক্ষ করা গেছে। মূলত ফ্যাশন চেইনে বেশ কিছু বিষয় বছর ঘুরে নতুন বছরে আবারও আসে। ২০২২-এর অনেক কিছুই ২০২৩-এ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। সামনের বছরে হয়তো আরেকটু পরিবর্তিত হয়ে আরও ভিন্নতার মাঝে আসবে।
মুন্নুজান নার্গিস
সিইও অ্যান্ড ফাউন্ডিং ডিরেক্টর, লা-রিভ
গত বছর লং কিংবা এ লাইন প্যাটার্নের ব্যবহার ছিল অনেকটা বেশি। তবে এ বছর কো অর্ড সেটের। এ ছাড়া শার্ট কাটিংয়ের কামিজ, প্ল্যাজো কিংবা প্ল্যাজো কাটিংয়ের প্যান্টের সঙ্গে একই কালারের ওপরের অংশের ব্যবহার ছিল এ বছরে। সেইম প্রিন্টের প্যান্ট, সেইম প্রিন্টের শার্ট ২০২৩ জুড়েই ছিল ফ্যাশনের তালিকায়। আর যদি গত বছরে ফিরে যাওয়া হয় তবে অনেক কিছুই সেখান থেকে এ বছরের ফ্যাশনে ছিল। এ ক্ষেত্রে লং কাট, এ লাইনের ব্যবহার ২০২২ জুড়েও ছিল সমান জনপ্রিয়।
বাংলা পোস্ট/আরএম/তাআসি
Posted ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।