| শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | 209 বার পঠিত
মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার
একুশে যতো না একটি অংক বা সংখ্যা; তার চেয়ে বেশি ঘটনা। একটি মায়াবি শব্দও। ‘একুশে’ উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে মনোজগতে ভেসে ওঠে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির কথা অথবা গণমানুষের ভালোবাসায় ঋদ্ধ একটি টেলিভিশনের নাম। ১৪ এপ্রিল একুশে টেলিভিশনের বয়স হলো ২৩ বছর। আর এক বছর পরই পদার্পণ করবে দুই যুগে।
একুশে টিভির ছোট নাম ইটিভি। বাইশ বছর আগে ২০০০ সালের ১৪ এপ্রিল নববর্ষের প্রথম দিনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে এর অভিষেক। স্টেশনটির উদ্বোধন করেছিলেন তখনকার এবং আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইটিভির শপথ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সারথী হওয়া। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সৃজনশীল ও বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান প্রচারের মধ্যদিয়ে সেই অঙ্গীকার তথা শপথ পালন করে আসছে।
বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি টেরিস্টোরিয়াল টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে ইটিভি গণমাধ্যম জগতের ইতিহাস। কালের সাক্ষী। দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভেরও অনন্য দৃষ্টান্ত। ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর আইনের ফেলে ফেলে ২০০২ সালে একুশে টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। নানা ঘটনা, বিড়ম্বনা শেষে ২০০৫ সালে এটি সম্প্রচারে ফিরে আসার লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০০৭ সালের ২৯ মার্চে শুধু স্যাটেলাইট এবং কেবল টেলিভিশনে একুশে টেলিভিশন সম্প্রচার আবার শুরু করে।

সংবাদ প্রচারে ইটিভি যে নতুনধারা আর অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে তার ফলোয়ার্স বাদবাকি বেসরকারি টিভিগুলো। শুরুতে এবং পরবর্তীতে এখানে বিগত দিনে কর্মরত সংবাদকর্মীরাই বিভিন্ন স্টেশনের মিডিয়াতারকা। অদ্যবধি একুশে টিভি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশীয় সংস্কৃতি, আপোষহীন সংবাদ, নাটকসহ সমৃদ্ধশালী বিনোদন। কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা আর মৌলবাদের বিরুদ্ধে এর দৃঢ় অবস্থান একুশে টিভিকে গণমানুষের প্ল্যাটফরমে নিয়ে এসেছে।
একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, প্রধান নির্বাহী পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী, চিফ প্ল্যানিং এন্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর বিপ্লব কুমার পাল, সিএনই অখিল পোদ্দারসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মীদের কর্মোদ্যম সম্পর্কে আমার একটি উচ্চধারনা। মাথা নত না করে মুক্ত চিন্তার খোলা জানালায় তাদের নিরলস শ্রম ও চেষ্টা যে কোনো গণমাধ্যমকর্মীর জন্যই শিক্ষণীয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশ-মাটি-মানুষের মুখপাত্র হয়ে এমন এগিয়ে যাওয়ার মাঝে অন্যান্য গণমাধ্যমের জন্যও অনুকরনীয় উপাদান রয়েছে। ইটিভির এ অভিযাত্রা অবিরাম সফল না হয়ে পারে না।
একুশে টিভি ২৪বর্ষে পদার্পণে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ( গতকাল পহেলা বৈশাখ ১৪৩০-বাংলা, ২২ রমজান ১৪৪৪ হিজরি, ১৪ এপ্রিল ২০২৩, শুক্রবার -) ছিল একুশে টিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিক অনুষ্ঠান। একুশে টিভি অতীতে যে ভূমিকা রেখে এসেছে, আশা করি ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে সেই ভূমিকা রেখে যেতে পারবে। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, সাংবিধানিক শাসনের স্বার্থে একুশে টিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা হোক একুশে টিভির পথচলা। এটাই আমার প্রত্যাশা ও সফলতা কামনা।
২৪বর্ষে পদার্পণ করায় একুশে টিভির সাংবাদিক ভাই-বোনদের এবং যারা এই একুশে টিভির প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। পাশাপাশি একুশে টিভির শুভানুধ্যায়ীদেরও বর্ষপূর্তির শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। একুশে টিভি বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি চ্যানেল। এটা এজন্য যে, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে একুশে টিভি সবসময় বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে চেষ্টা করে।
একইসঙ্গে সত্যকে তুলে ধরতে একটা আপসহীন অবস্থান আছে এই একুশে টিভির । সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দল, মত ও মতাদর্শিক বিশ্বাস প্রাধান্য পায় না। একুশে টিভির প্রতিবেদনে দল-মত নির্বিশেষে এ ধরনের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সবার কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় বিষয়। প্রতিষ্ঠার পর অল্পদিনে জনপ্রিয়তা অর্জন এবং দুই যুগ পেরিয়েও সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ বিষয়টা প্রধান অবলম্বন হিসেবে কাজ করছে একুশে টিভি।
দর্শক প্রিয় একুশে টিভির আজ জন্মদিনে আমি প্রত্যাশা করি, গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সামনের দিনগুলোতে যে সংগ্রামে জাতিকে অবতীর্ণ হতে হবে, সেই লড়াইয়ে জনমত গঠনে একুশে টিভি অতীতের মতোই সাহায্য করবে এবং অভিন্ন সাহসী ভূমিকা পালন করবে। আমি একুশে টিভির সাফল্য কামনা করি।
লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বাংলা পোস্ট | প্রকাশক, বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা।
Posted ১২:১৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩
banglapostbd.news | S A
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।