নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট | 140 বার পঠিত
আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনের তফসিল ঠেকানোই টার্গেট রাজপথের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপির। এর মধ্য দিয়েই আন্দোলনের শেষ ধাপে বিরতিহীন কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটবে দলটি। সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা।
ইতোমধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চসহ সমমনা জোটগুলোর সঙ্গে বৈঠকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাদের এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান জোট নেতারা। গত (সোমবার) নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশেও নেতাকর্মীদের ‘সর্বাত্মক প্রস্তুতি’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষনেতারা।
পূজার পর এ সমাবেশে সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। সেখান থেকে সরকারকে দেওয়া হবে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দুর্গাপূজার পর বদলে যাবে রাজপথের চিত্র। এবারের আন্দোলনের উত্তাপ সরকারের ভিত নড়বড়ে করে দেবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে এমন মেসেজ সারাদেশের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
মূলত, গত বছরের শুরু থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন গতি বাড়াতে থাকে বিএনপি। গেল ডিসেম্বরে আন্দোলনের গতি হঠাৎ করেই তীব্রতা পায়। কিন্তু সরকারের মারমুখী অবস্থানের কারণে তা আর আলোর চেহারা না দেখলেও নেতাকর্মীদের মাঝে আন্দোলনের স্পৃহা বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি সরকারবিরোধী প্রতিটি কর্মসূচিতে ব্যাপক নেতাকর্মীরও সমাগম ঘটছে।
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ইতিমধ্যে সাতটি বিভাগীয় শহরে করেছে রোডমার্চ। করা হয়েছে শ্রমিক কনভেনশন, মহিলা সমাবেশ, পেশাজীবী কনভেনশন, কৃষক সমাবেশ, ছাত্র সমাবেশ এবং যুব সমাবেশ। প্রতিটি কর্মসূচিতেই স্ব স্ব সংগঠনগুলো সারাদেশ থেকেই রাজধানীতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ঘটায়।
দলটির সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও কঠিন আন্দোলনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ঢাকামুখী হতে শুরু করেছেন অনেক নেতাকর্মী। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়তে থাকবে। বিশেষ করে রাজধানীকেন্দ্রিক এ আন্দোলনের শেষ ধাপের বিরতিহীন কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটবে দলটি। এ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভবনমুখী পদযাত্রা, ঘেরাও, অবস্থান ও অবরোধ; এমনকি পরিস্থিতি বুঝে হরতাল কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আমরা এই সরকারকে অনেক সময় দিয়েছি। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ নেই। আগামীতে পূজার সময়টা সাময়িক বিরতি চলবে। তারপরই বিশাল গণজোয়ারে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ এই সরকারকে বিদায় দিতে বাধ্য করবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে বলেন, ‘যে দাবিতে আন্দোলন চলছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও এ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তা বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমাদের কোনো টার্গেট নেই। টার্গেট একটাই এ সরকারের পতন। আর তাদের পতন অতি সন্নিকটে।’
দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘চূড়ান্ত আন্দোলন তো চলছেই। যেকোনো সময় সরকার পদত্যাগের ঘোষণা করবে বলে আমি মনে করি। সরকারের চালচলন স্বাভাবিক নয়। তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের দেখে নেবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যেভাবে দমন করা হয়, সেভাবেই বিএনপি নেতাকর্মীদের দমন করা হচ্ছে।’
বাংলা পোস্ট/আরএম/তাআসি
Posted ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৩
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।