নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | 1104 বার পঠিত
নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে দেশের হাজারো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কতিপয় ধর্মান্ধ, অশিক্ষিত ও ধার্মিক নামধারি ব্যক্তিদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে দেশের হাজার হাজার ওয়াকফ স্টেটভুক্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে কোথাও কোথাও প্রতিষ্ঠানের মোতাওয়াল্লী ও তার দোসরা লুটে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। দৈনিক পাঞ্জেরীতে এরকমই দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যা ওয়াকফভুক্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে বেহাত হয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ অনুদানের অর্থ। মুসল্লীদের অনুদানের অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয় করা হচ্ছে তার কোন হদিস নেই।
সরেজমিনে তদন্তে গেলে উত্তর কাফরুল এলাকার এই মসজিদ ও মাদ্রাসার কয়েকজন মুসল্লী জানান সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সন্ত্রাসী রফিকুল ইসলাম এর ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম আমিন মব জাস্টিস করে এই মসজিদ মাদরাসা নিয়ন্ত্রণ করছে।আর তাকে এই কাজে সহযোগিতা করছে সাবেক হাফেজ ফরীদ ও সন্ত্রাসী
রাসেল, এলাকার চায়ের দোকানে চা খেতে আসা কয়েজন বলেন যে,গত ২০ জুন শুক্রবার জুম্মা নামাজের পূর্বে খতীব সাহেব একটি চিঠি পাঠ করে মুসল্লীদেরকে শুনান যা সকলের সামনে কোন একজন মুসল্লী তার হাতে দেন।তাতে লেখা ছিল মসজিদের পানির লাইন চুরি করে সভাপতি রফিকুল ইসলাম এর বাসায় নেয়ার কথা।আর আওয়ামী লীগ দোষর ফরীদ আহমেদের দুর্নীতির কথা।তাই তারা ক্ষেপে গিয়ে খতীব সাহেবকে মারতে আসে, এরপর আমীন , ফরীদ দুইজন খতীব হুজুরকে মসজিদে ঢুকতেই দেয়না, উক্ত ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন এদের আচরণে মনে হয় ওদের বাবাগো মসজিদ! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি আরো বলেন রফিকের দিন কবে শেষ হবে,আমিনের দিন করে শেষ হবে। আমরা সে অপেক্ষায়ই আছি।
সরে জমিনে তদন্তে আরো দেখা যায় রাজধানীর কাফরুল থানাধীন উত্তর কাফরুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। যদিও উপরোক্ত দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারের ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত সম্পত্তি। উক্ত দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির আড়ালে অর্থ লুটের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে আসায় এলাকার মুসল্লীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে এভাবে ন্যাক্কারজনক রাজনীতিকরণের ফলে এলাকাবাসী দিনদিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন মুসল্লীরা। বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদী আমলে উপরোক্ত দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান একদিকে যেমন রাজনৈতিক কার্যালয় অন্যদিকে পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মুসল্লীদের জমাকৃত অনুদানের অর্থের কোন হিসাব না পাওয়ায় দিনদিন ক্ষোভ প্রসারিত হচ্ছে তাদের মাঝে। সম্প্রতি উক্ত দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ীতে মসজিদের পানির লাইন থেকে গোপনে তার বাড়ীতে চোরাই লাইনে পানি সরবরাহের ঘটনা সামনে আসলে উত্তর কাফরুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ও জামিয়া ইসলামিয়া মাাদ্রার প্রিন্সিপাল মুফতি মাওলানা মোঃ মাহবুবুর রহমান বিন নুরীর উপর হামলার উপক্রম হয়। যে কারণে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেছেন। যার নাম্বার ১৪০৪, তারিখ-২১/০৬/২০২৫ ইং। এলাকাবাসী জানান, উক্ত দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিগত আওয়ামী আমলে সব ব্যাপারে নাক গলান সাবেক প্রিন্সিপাল হাফেজ ফরিদ আহমেদ। প্রশ্ন উঠেছে, প্রিন্সিপাল হওয়ার মত যার কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, তবুও তিনি কোন ক্ষমতাবলে উক্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৬/০৮/২০২৪ইং হাফেজ ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তাকে প্রিন্সিপালের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবুও তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নানা সময়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুসল্লীরা। এ ব্যাপারে বিগত সময়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। বর্তমানেও পাচ্ছে না। প্রতিবাদ করলেই জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার কোমল মতি শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। সাবেক সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম সুকৌশলে হাফেজ ফরিদ আহমেদকে প্রিন্সিপালের পদ থেকে সরিয়ে দিলেও প্রশাসনিক এবং আর্থিক ক্ষমতা ফরিদ আহমেদের হাতেই রেখে দেওয়া হয়। বর্তমান প্রিন্সিপাল মুফতি মাওলানা মোঃ মাহবুবুর রহমান বিন নুরীকে অন্ধকারে রেখেই সুচতুর হাফেজ ফরিদ আহমেদ পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, হাফেজ ফরিদ আহমেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে উত্তর কাফরুল জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল হিসেবে বহু বছর পূর্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে ওয়াকফ প্রশাসনের বেধে দেওয়া বেতন কাঠামোর বাইরে গিয়ে রহস্যজনক কারণে মোটা অঙ্কের বেতন নির্ধারণ করা হয়। ১৯৬০ সালে কাফরুল এলাকার বিশিষ্ট নাগরিক মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মোল্লা উত্তর কাফরুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে উপরোক্ত মসজিদটি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। উপরোক্ত দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বিগত ০৫/০৪/১৯৮৬ সালে ওয়াকফ এস্টেটের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে ওয়াকফ প্রশাসনের আইনানুযায়ী পরিচালিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে উক্ত দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত খেয়াল খুশিমত পরিচালিত হয়ে আসে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। সূত্র জানায়, বিগত ২০১০ সালে কাফরুল এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হকের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই মোঃ রফিকুল ইসলামকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত করার পর থেকেই নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এ সময় তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ ফরিদ আহমেদ। যে কারণে হাফেজ ফরিদ আহমেদ বিভিন্ন সময় পুরস্কৃতও হয়েছেন। বনে গেছেন সর্বেসর্বা। তবে সব সময় সুচতুর হাফেজ ফরিদ আহমেদ থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বিপদের সম্মুখীন হলেই মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শ্রেণির পাঠদান বন্ধ করে রাস্তায় নামিয়ে স্লোগান দিতে বাধ্য করেন। অভিযোগ রয়েছে, উত্তর কাফরুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করে হাফেজ ফরিদ আহমেদ তার গ্রামের বাড়ীতে বিশালাকৃতির খামার গড়ে তুলেছেন।স্থানীয় মুসল্লীরা জানান, হাফেজ ফরিদ আহমেদ বিগত ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দালালি করলেও বতর্মানে বোল পাল্টিয়ে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে নিজের শক্তি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। উক্ত দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ওয়াকফ এস্টেটের আওতাভূক্ত সম্পত্তি হওয়ায় কর্তৃত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে হাফেজ ফরিদ আহমেদ গোপন আতাঁতের মাধ্যমে ওয়াকফ প্রশাসনের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর শেল্টারে নগ্ন খেলায় মেতে উঠেছেন।এদিকে হাফেজ ফরিদ আহমেদের খামখেয়ালিপনা, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে কাফরুল এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও সাবেক সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলামের আপন ছোট ভাই আমিনুল হক (আমিন) কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন। যার নাম্বার-৫৪৬, তারিখ-০৮/১০/২০২৪ইং। পুলিশ জানিয়েছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যে কারণে তারা গভীরভাবে তদন্ত করছেন। সূত্র জানায়, ওয়াকফ প্রশাসনের সহকারী ওয়াকফ প্রশাসক ফরিদ আহমেদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বর্তমানে হাফেজ ফরিদ আহমেদ হয়ে উঠেছেন অপ্রতিরোধ্য। বলায় যায়, মূর্তমান এক আতঙ্কের নাম হাফেজ ফরিদ আহমেদ। কেউ ভয় প্রতিবাদ করার সাহস পান না। সূত্র আরও জানায়, ওয়াকফ প্রশাসনের উপরোক্ত সহকারি ওয়াকফ প্রশাসক ফরিদ আহমেদ মিরপুরের বিভিন্ন ওয়াকফ এস্টেটভূক্ত সরকারি সম্পত্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা পেয়ে থাকেন। ২০১২-১৩ সালে ফরিদ আহমেদ ওয়াকফ প্রশাসনে ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় ঐসব এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সহকারী ওয়াকফ প্রশাসক ফরিদ আহমেদ বর্তমানে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন নামে বেনামে (অনুসন্ধান অব্যাহত)। অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত হাফেজ ফরিদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব তিনি মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক বলে দাবি করেন। অন্যদিকে কমিটির সাবেক সভাপতির বাড়িতে মসজিদের পানির লাইন গোপনে নেওয়ার বিষয়টিকেও উড়িয়ে দেন হাফেজ ফরিদ আহমেদ। অর্থ লুটের ঘটনা অবান্তর বলে জানান তিনি। অপরদিকে ওয়াকফ প্রশাসনের সহকারি প্রশাসক ফরিদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয় কোন মন্তব্য না করে এই প্রতিবেদককে বার বার অফিসে যাওয়ার অনুরোধ করেন (অভিযুক্ত দুইজনের নাম একই )।
Posted ৯:৫০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।