নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | 1003 বার পঠিত
সরকারি চাকরিতেই যেন সব মধু। চাকরি পাওয়া মানে আলাদীনের চেরাগ হাতে পাওয়া। যেখানে চেরাগ ঘষা দিতেই দ্বৈত্য বের হয়ে মালিকের ইচ্ছে পুরন করে। বছর ঘুরতেই একের পর এক বাড়ী গাড়ী কি করে হয়ে যায় স্বল্প আয়ের কর্মকর্তাদের। রুপকথা গল্পকেও হার মানায় এসব ঘটনা। সম্প্রতি সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমান কিংবা ড্রাইভার আবেদ আলী তার উদাহরন। শুধু কি মতিউর কিংবা আবেদ আলীরাই অবৈধ্যভাবে প্রচুর বিত্তের মালিক। না এমন আরো অনেকেই আছেন তার মধ্যে অন্যতম রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। বর্তমানে টাকার মেশিন নামে পরিচিতি হয়ে উঠেছেন।
রাজউক জোন ২/১ এর ইমারত পরিদর্শক এই মামুন শুধূ অবৈধ অর্থেও মালিক বনেই যাননি, তার বেপরেয়া ও বিলাসী জীবনাচারও এখন আলোচনায় আসতে শুরু করেছে। রাজধানীর একাধিক তারকা হোটেলে নিজ নামে স্যুট বুকিং রয়েছে এ কর্মকর্তার। এর মধ্যে পুরানা পল্টনের হোটেল ফার্স ও হোটেল একাত্তরে এ কর্মকর্তার মাস কাবারি স্যুট বরাদ্ধ রয়েছে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রতি রাতে সে সব স্যুটে বসেই চলে অবৈধ অর্থের লেনদেন। চলে মাদক সেবন, নারী বিলাসীতা। জানা গেছে, ২০১৮ সালে চাকুরিতে যোগদানের পর মাত্র ৬ বছরে এই কর্মকর্তা এখন শতকোটি টাকার মালিকানার ঘরে নাম লিখিয়েছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদকে) অভিযোগ করেছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দূর্নীতি দমন কমিশনের জমা পড়া সে অভিযোগ থেকে জানা যায়, এরই মাঝে এ কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। রাজধানী থেকে নিজ গ্রাম শ্বশুর বাড়ীসহ সারা দেশেই ছড়িয়ে রয়েছে এ কর্মকর্তার জমি- সম্পদ।
জানা গেছে, রাজউক জোন ২/১ এর ইমারত পরিদর্শক হিসাবে ঢাকার উত্তরা এলাকায় নির্মানাধীন ভবণে ত্রটি ধরে ভবনের মালিককে ভয়রীতি দেখিয়ে জিম্মি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া এখন অনেকটা নেশায় পরিনত হয়েছে মামুনের। শুধু তাই নয়, অবৈধ ইমারত নির্মানে সহযোগীতা করে অকুপেন্সি সনদ পাওয়ায় অযোগ্য ভবন গুলোকে অবৈধভাবে অনুপেন্সি সনদ পাইয়ে দিয়ে ভবন মালিকদের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। সম্প্রতি তিনি প্রভাব খাটিয়ে ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে বেশ কিছু ভবনের অকুপেন্সি সনদ প্রদান করেছেন।
জমি ক্রয় ও নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক মূল্য ২০-২৫ কোটি টাকা। তার নিজ এলাকা বাউফল থানাধীন গ্রাম-মুরাদপুর এলাকায় নিজ নামে, স্ত্রীর নামে ও নিভিন্ন ব্যক্তির নামে ক্রয় করেছেন আনুমানিক ৩ (তিন) কোটি টাকার জমি । শ্বশুরের নামে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণসহ ব্যবসা করার জন্য অর্থায়ন করেছেন।
মামুন এর স্ত্রীর নামে গাজীপুরে জমি ক্রয় করেছেন ২(দুই) কোটি টাকারও বেশী । নিজ নামে, স্ত্রীর নামে, শশুর শালদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ও এফডিআরসহ, সঞ্চয়পত্র কিনেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। দুদক অনুসন্ধ্যানে তার আরো ব্যক্তিগত সম্পদের খোঁজ মিলবে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দূনীতি দমন কমিশনেও। অভিযোগে দেখা যায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক কর্মরত ইমারত পরিদর্শক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০১৮ সনে চাকুরীতে যোগদান করেন। যোগদান করার পর হতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ঢাকার উত্তরা এলাকায় নির্মানাধীন ভবনে ত্রুটি ধরে ভবনের মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । শুধু তাই নয় অবৈধ ইমারত নির্মানে সহযোগীতা করে অকুপেন্সি সনদ পাওয়ার অযোগ্য ভবনগুলোকে অবৈধভাবে অকুপেন্সি সনদ পাইয়ে দিয়ে ভবন মালিকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা
আফতাব নগরে ডি ব্লক যে ফ্লাট কিনেছেন তার বর্তমান মূল্য ৮০ (আশি) লক্ষ টাকা। জানা যায় ১০/১২টি ভবনের অকুপেন্সি সনদ দিয়ে ১৫/২০ লক্ষ করে টাকা নিরাছেন তিনি। ঢাকা মেট্রো ঘ-২২-০৭৩৯ টয়োটা গাড়ী ব্যবহার করেন তার মূল্য ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) লক্ষ টাকা।
ডিআইটি প্রজেক্ট আফতাব নগর এ ৩.৫ কাঠার একটি প্লট ও প্রজেক্টের ৭.৫ কাঠা জমি ক্রয় করে উহার উপর ১০ তলা ভবন নির্মাণ করিতেছেন নিজস্ব অর্থায়নে। জমি ক্রনা ও নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক মূল্য ২০-২৩ কোটি টাকা।
তার নিজ এলাকা বাউফল থানাধীন গ্রাম-নুরানপুর এলাকায় নিজ নামে, স্ত্রীর নামে ও বিভিন্ন ব্যক্তির নামে জমি ক্রয় করেছেন আনুমানিক ৩ (তিন) কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন তার নিজের শ্বশুরের নামে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান সহ ব্যবসা করার জন্য অর্থায়ন করেছেন। ইহাতে তিনি বিনিয়োগ করেছেন ২(দুই) কোটি টাকা।
অবৈধ অর্থ দিয়ে প্রতি রাতে হোটেল ফার্স ও হোটেল ৭১ এ নিয়মিত সহকর্মীকে নিয়া মধ্যরাত অবদি মামুনের চলে মদের আড্ডা। প্রতিদিন ২(দুই) লক্ষ টাকা খরচ বলে জানা গেছে।
নারী কেলেংকারির খবরও রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে। অন্য এক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় মামুন তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে। তার স্ত্রী ৯৯৯ ফোন দিয়ে কয়েকবার পুলিশ বাসায় আনলেও টাকা দিয়ে থানা পুলিশ ম্যানেজ করে মামুন।
তবে, স্ত্রীর নামে মামুন গাজীপুরে জমি ক্রয় করেছেন ২(দুই) কোটি টাকার। এছাড়া নিজ নামে স্ত্রীর নামে শ্বশুর শ্যালকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ও অনেক টাকার এফডিআর আছে এবং সঞ্চনাপত্র আছে বলে উঠে এসেছে অনুসন্ধানে ।
দিনে দিনে বেপোরায়া হয়ে উঠছে এই মামুন। কিসের জোগে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্নীতি করে আসছে তা জানানে তার ঘনিষ্টজনেরাও । তবে তিনি সব ম্যানেজ করেই চলে বলে মনে করেন সহকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও উত্তরায় কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির পাহাড় গড়ে চলছে মামুন। তবে মামুনের খুটির জোড় কোথায় তা জানতে চায় এলাকাসী।
এই বিষয়ে মামুনের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন কেটে দেন তিনি। এসএসএম পাঠিয়েও পাওয়া যায়নি কোন জবাব।
Posted ১০:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।