নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০১ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট | 434 বার পঠিত
কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানাধীন কুর্শা গ্রামের মরহুম আলতাফ উদ্দিনের ছোট ছেলে এম.এ.হাসিম দীর্ঘ ৩২বছর প্রবাসে থেকে অর্থ উপার্জন করে বড় ভাইয়ের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ করে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছোট ভাইয়ের বিনিয়োগকৃত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে নিজে ভোগ করছে বড় ভাই ইদ্রিছ আলী । যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। বিভিন্ন সময় সালিশ বৈঠক করেও প্রবাসী এম.এ হাসিম তার প্রাপ্য সম্পত্তি নিজ দখলে নিতে পারেরি। বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় তিন ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে আসছে ইদ্রিছ আলী। বর্তমানে ইদ্রিছ আলী কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ পদে আছে।
তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা যায়, এম.এ.হাসিম কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানাধীন কুর্শা গ্রামের মরহুম আলতাফ উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র। ব্যাংক, স্বজন ও বন্ধুদের সহযোগিতায় ১৯৯২ সনে ইউরোপ পাড়ি দেন। ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে বর্তমানে জাতিসংঘের একটা সংস্থার হেডকোয়ার্টার এ কর্মরত আছেন । ৩২ বৎসরের অধিক সময় যাবৎ দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন। ১৯৯২ থেকে প্রবাসী জীবনে অর্জিত অর্থ ভাইদের কাছে
বিভিন্ন ব্যাংকে প্রেরণ করেন এবং ব্যাংক থেকে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করেন। তার টাকা ও ব্যাংক এর বিনিয়োগ মূলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করা হয় যা তার ভাই ইদ্রিছ আলী পরিচালনা করেন। ২০০৭ সালে তাদের পিতা ও সকল
ভাইদের উপস্থিতিতে একটি পারিবারিক চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়। চুক্তি মোতাবেক ব্যবসার লভ্যাংশের চারি আনা হিস্যা (শতকরা ২৫ টাকা) স্বউদ্যোগে এম এ হাসিমের কাছে পৌঁছাইয়া দেয়ার ব্যাপারে ইদ্রিছ আলী লিখিতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হন। মেসার্স আলতাফ অটো রাইস “দিয়ে ব্যবসা শুরু করে পরবর্তীতে ইট ভাটার বিনিয়োগ এবং সর্বশেষ শাপলা ব্রিকস” গ্রাম: করগাঁও, উপজেলা: কটিয়াদী, জেলা: কিশোরগঞ্জ। উল্লেখ্য, একই চুক্তি মূলে আরেক ভাই হাজী মো. রূপালী “আলতাফ ব্রিকস” এর লভ্যাংশ এর চারি আনা হিস্যা এম এ হাসিমকে দিয়ে যাচ্ছেন।
চুক্তিপত্রে শর্ত অনুযায়ী ইদ্রিস আলী ব্যবসার লভ্যাংশ এর চারি আনা হিস্যা স্বউদ্যোগে পৌঁছানোর কথা থাকলেও কোন রকমের হিসাব না দিয়ে মনগড়া ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে ইদ্রিছ আলী । বিদেশ থেকে ফরেন রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট দিয়ে টাকা গড় তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজের দখলে নিয়ে ইদ্রিছ আলী বর্তমানে বিশাল সম্পদের মালিক। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সমাজ, এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য বৈঠক করা হলেও কারও কোন কথাই শুনছেন না। বরং ব্যবসার লভ্যাংশ চাইতে গেলে কয়েক বৎসর আগে ইদ্রিস আলী জোর পূর্বক এম এ হাসিমের বাড়ি ও জায়গা সম্পদ দখল নেন। এ নিয়ে তখন জাতীয় দৈনিক সমকাল ও মানবজমিন পত্রিকায় প্রতিবেদনও ছাপা হয় ।
শুধু তাই নয় ইদ্রিছ আলী স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় তার অন্য দুই ভাইয়ের সম্পত্তিও আত্মসাৎ করেছেন। এক ভাই হাজী মো. সোনালীকে প্রতারিত করে তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করা যার বর্তমানে সোনালীর দাবি আনুমানিক ৩ কোটি টাকা। অপর সহোদর হাজী রূপালীর প্রায় দেড় কোটি নিয়েছিল ব্যবসার জন্য রুপালি এখনও ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ইদ্রিছ আলী তিন ভাই সম্পত্তি আত্মসাৎ করে প্রায় ৩০ কোটি টাকার মালিক। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যের জমি জবরদখল করারও অভিযোগ রেয়েছে । মো. ইদ্রিছ আলী কিশোরগঞ্জ শহরে দুটি ৫ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন, কর্মুলীতে কয়েক কোটি টাকার জায়গা, নিজ এলাকায় ৭ তলা ফাউন্ডেশনসহ বিশাল দামি জায়গা ক্রয় করেছেন, সব মিলেয়ে মো. ইদ্রিছ আলী আনুমানিক ৩০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। সবই নিজের নামে দলিল করেছেন যদিও সকল সম্পদ ভাইদের যৌথ ব্যবসার লভ্যাংশ থেকে করা।
উল্লিখিত বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব বরাবরে আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় কর্তৃক “প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখের ৪৯.০০.০০০০ ।০২৪.০৮.০০৩.১৯ (অংশ- ০১/১০৬০ নং স্মারক, মারফত জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জ এ তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। উল্লেখ্য, উভয় পক্ষের হিসাবনিকাশ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য ০৯/০১/২০২১ ইং তারিখ করগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেন যে, এম এ হাসিম ইদ্রিস আলীর কাছে শুরু থেকে এ পর্যন্ত চারিয়ানা অংশ পাবেন। চারিয়ানা অংশ আনুমানিক ৫ কোটি টাকা।
Posted ১০:১৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০১ জুন ২০২৪
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।