| বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | 480 বার পঠিত
নাটোরে কলেজছাত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণের মামলায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (দায়রা জজ) মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১২ সালে। ওই বছরই বাদীর আপসনামা জমা দিয়ে মামলাটির সব আসামি নাটোরের ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিনে মুক্ত হন। এ ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিল করেন এবং ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলিকে সশরীর আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আপসের বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করেছিলেন তৎকালীন আইনসচিব।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামের ছাব্বির আহমেদ (৩০), জামাইদিঘি গ্রামের রেজাউনুল হক (৩১), সিংড়া উপজেলার নাছিয়ারকান্দি গ্রামের নাজমুল ইসলাম (৩১), মহিষমারি গ্রামের রাজিবুল হাসান (৩০), দেবত্তর গ্রামের রিপন আলী (৩১) ও সিহাবপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪০)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সিংড়ার মহিষমারি গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৩০), সিহাবপুর গ্রামের আতাউল ইসলাম (৩৪), খায়রুল ইসলাম (৩৭) ও রেজাউল করিম (৪২)। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে আসামি নাছির হোসেনকে (৩১) খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। বাকিরা পলাতক। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রী তাঁর পূর্বপরিচিত ছাব্বির আহমেদের সঙ্গে বেড়াতে বের হন। ছাব্বির তাঁকে নিয়ে সিংড়ায় যান। সেখান থেকে আরও কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তাঁরা ভ্যানে করে বেড়াতে যান। ওই রাতে আসামিরা দল বেঁধে তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ১১ জনের নামে ধর্ষণের মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন সিংড়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হায়দার মো. ফয়জুর রহমান। তদন্তকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান ও রওশন আলম আসামিদের স্বীকারোক্তি নথিভুক্ত করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি আটক ৮ আসামি, পলাতক ৩ আসামিসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যায়।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১২ সালে বাদীর আপসনামা জমা দিয়ে মামলাটির সব আসামি নাটোরের ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিনে মুক্ত হয়। এ ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিল করেন। পরবর্তী সময় আসামিরা হাইকোর্ট থেকে পর্যায়ক্রমে জামিন পান।
ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আনিছুর রহমান আসামিদের দণ্ডাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট। তবে আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
Posted ৩:৩৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৩
banglapostbd.news | S A
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।