নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৭ আগস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | 267 বার পঠিত
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত সোমবার ভারতে পালিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে দেশ ছেড়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গণ-আন্দোলনে পতনের পর এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রনেতাকে পালাতে দেখল বাংলাদেশ।
ক্ষমতার দম্ভ, বিরোধী মত দমনসহ মানুষকে অপমানের খেসারতস্বরূপ তাকে এই করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের টানা চারবারের এই প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আলোড়ন তুলে বিশ্ব গণমাধ্যমে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম চার থেকে পাঁচটি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নিয়ে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, দমন-পীড়নে শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ায় কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। তাদের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়েছেন, সেনাবাহিনী বলেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে’। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার পদত্যাগ করেছেন এবং দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় কয়েকশত মানুষ নিহত হওয়ার পর হাসিনা সরকারের পতন হলো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। সংবাদমাধ্যমটির স্থানীয় প্রতিনিধির বরাতে এ খবর দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বিবিসি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা ‘নিরাপদ আশ্রয়ের’ জন্য দেশ ছেড়েছেন। সঙ্গে শেখ রেহানাও আছেন। আরেকটি প্রতিবেদনে বিবিসি বলেছে, দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা সেনাপ্রধানের। বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে হাসিনার দেশত্যাগের পর গণভবন দখল করে নেয় ছাত্র-জনতা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও দখল করে নেয় তারা। সেখানে তাদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিচার চেয়ে স্লোগান দিয়েছে কেউ কেউ। এ সময় সেখানকার বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যেতে দেখা যায় কাউকে কাউকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, আন্দোলনের পর বাংলাদেশের নেতা (শেখ হাসিনা) পদত্যাগ করেছেন এবং দেশ ছেড়েছেন। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা সেনাপ্রধানের। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে হাসিনার দেশত্যাগের পর গণভবন দখল করে নেয় ছাত্র-জনতা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও দখল করে নেয় তারা। সেখানে তাদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিচার চেয়ে স্লোগান দিয়েছে কেউ কেউ। এ সময় সেখানকার বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যেতে দেখা যায় কাউকে কাউকে।
দ্য গার্ডিয়ানে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন, নিশ্চিত করেছেন সেনাপ্রধান। তাদের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের নতুন ঢেউ উঠলে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কাতারভিত্তিক আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ছাত্র-নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন। তার সরকারি বাসভবন গণভবনে হাজারো মানুষ ঢুকে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে কোনো লাভ হয়নি। হাসিনার পদত্যাগ ও নিহতের ঘটনার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ-আন্দোলন দেশব্যাপী একটি নজিরবিহীন গণজাগরণে রূপ নেয়। তাদের আরেকটি প্রতিবেদনের শিরোনাম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা সেনাবাহিনীর। সংবাদমাধ্যমটি গত প্রায় ১০ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরাইল-গাজা যুদ্ধ বিষয়ক সংবাদ সরিয়ে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির সংবাদকে নিজেদের হোমপেজে লিড করে রেখেছে। তাদের অনলাইনেও বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে লাইভ রিপোর্টিং হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনের শিরোনাম, দেশজুড়ে মারাত্মক সরকারবিরোধী সমাবেশের জেরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরের শিরোনাম বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বাংলাদেশের নেতা। এএফপির খবরে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়ে বলা হয়েছে, নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশ ছেড়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এএফপি বলেছে, হাজারো মানুষ গণভবনে ঢুকে পড়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরের শিরোনাম ব্যাপক অস্থিরতা মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিক্ষোভকারীরা তার সরকারি বাসভবনে তাণ্ডব চালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং সোমবার দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এরপরই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী তার সরকারি বাসভবন (গণভবন) এবং তার দল ও পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ভবনে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রধান খবর হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে শেখ হাসিনার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘Shaken Hasina Flees, Army In Charge’। তাদের লাইভ প্রতিবেদনে শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশে থেকে পালিয়ে ভারতে শেখ হাসিনা; পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ব্রিফ করেছেন’। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দিল্লির হিন্দান বিমান ঘাঁটিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইনে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়েও একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, ‘হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত, বাংলাদেশের নতুন বস কে জেনে নিন। কে এই জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান?’
দ্য হিন্দু লিখেছে, ‘Hasina quits, flees Bangladesh, lands in India as protests surge’। তাদের একটি প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, হাসিনা ক্ষমতা হারানোয় ভারতের প্রতিবেশী দেশটিতে আরও বেশি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। দেশটি ইতিমধ্যেই উচ্চ বেকারত্ব এবং দুর্নীতি থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানা সংকটে জর্জরিত।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ বছরের শাসনামলের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, সেনাবাহিনী একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে এবং বিক্ষোভকারীদের শান্তির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়াও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের শিরোনাম ছিল, ‘Hasina falls, flees, Army takes Dhaka’। হিন্দুস্তান টাইমসও লিখেছে, ‘Hasina Flees Bangladesh’।
এ ছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট, সৌদি আরবের আরব নিউজ, তুর্কি বাতা সংস্থা আনাদোলুসহ বিশ্বের প্রভাবশালী অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির সংবাদ প্রকাশ করেছে।
Posted ১২:১৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ আগস্ট ২০২৪
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।